শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮:০১, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
জাতিসংঘ জানিয়েছে যে, মিয়ানমারের ব্যাপকভাবে সমালোচিত নির্বাচন চলাকালীন প্রায় দুই মাসে দেশটির সামরিক বাহিনী ৪০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত—অর্থাৎ নির্বাচনের সময়কালে—বিভিন্ন ওপেন সোর্সের মাধ্যমে খবর পাওয়া প্রায় ৪০৮টি সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক লোক প্রাণ হারিয়েছেন।
মানবাধিকার অফিসের মিয়ানমার টিমের প্রধান জেমস রোডহেভার সতর্ক করে বলেছেন যে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, খবর সিঙ্গাপুর স্ট্রেইট টাইমসের।
ব্যাংকক থেকে জেনেভায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি জানান, এই তথ্যগুলো গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে গত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত সময়ের। অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে ভোটের তিনটি ধাপ প্রায় শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়কাল এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে তিনি এই বলে সতর্ক করেছেন যে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অনেক এলাকার মানুষের কথা বলতে ভয় পাওয়ার কারণে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে অনেক সময় বেশি সময় লাগে।
মিয়ানমারের মাসব্যাপী এই নির্বাচন নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো এই নির্বাচনকে সেনাশাসনের একটি নতুন মোড়ক হিসেবে অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য যে, অং সান সু চির জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার পাঁচ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক ৩০ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের জনগণের ওপর যে গভীর ও ব্যাপক হতাশা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সামরিক বাহিনীর এই নির্বাচনের মাধ্যমে তা আরও গভীর হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক মানুষ কেবল ভয়ের কারণে ভোট দিয়েছেন অথবা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এটি তাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার ভোগের ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, "দেশের বিশাল অংশ জুড়ে সংঘাত ও অস্থিরতা অব্যাহত ছিল। বিরোধী প্রার্থী এবং কিছু নৃগোষ্ঠীকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।"
তার দপ্তর উল্লেখ করেছে যে, দেশটির ৩৩০টি জনপদের মধ্যে মাত্র ২৬৩টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরগুলোতে এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকার সীমিত কিছু অংশে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, "এর ফলে জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ, বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর মতো সংখ্যালঘুরা নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।"
মিস্টার তুর্ক মিয়ানমারে গত পাঁচ বছরের সামরিক শাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই সময়কালটি "রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, গণহারে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ, ব্যাপক নজরদারি এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার মাধ্যমে চিহ্নিত হয়ে আছে।"
তিনি আরও বলেন, "এখন সামরিক বাহিনী মানুষকে ব্যালট বাক্সের দিকে যেতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাদের সহিংস শাসনকে আরও পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে।"
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "এটি কোনোভাবেই বেসামরিক শাসনের প্রতিফলন হতে পারে না।"