শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১:৩৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। এমন এক সময়ে এই খবর এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে ইরান যদি কোনো 'চুক্তিতে' না আসে তবে দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালানো হবে, খবর ডিডাব্লিউ-এর।
উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সাথে কথা বলছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেন, মিডিয়া যুদ্ধের ডামাডোলের বাইরেও আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
শনিবার তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল থানির সাথে লারিজানি সাক্ষাৎ করেন। কাতারের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টাগুলো পর্যালোচনা করেছেন। কাতার যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান মিত্র এবং দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারে। সৌদি আরবের মতো অন্য সুন্নি আরব দেশগুলোর তুলনায় ইরানের সাথে কাতারের সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন যে যুদ্ধ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হবে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে এক ফোনালাপে তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে যুদ্ধ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলের কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। মিসরও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গুরুত্বের সাথে কথা বলছে।
ফ্লোরিডার পাম বিচে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে "গুরুত্বের সাথে" আলোচনা করছে এবং তিনি আশা করেন যে একটি "গ্রহণযোগ্য" চুক্তি সম্ভব হবে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির অর্থ হবে "কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।" এর আগে তিনি ইরানকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
উচ্চ বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের মান কমে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের মুখে গত ডিসেম্বরে শিয়া ইসলামপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে এই প্রতিবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে ইরান সরকার কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬,৭১৩ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ৬,৩০৫ জনই বিক্ষোভকারী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইরান শুক্রবার জানিয়েছে যে নিহতের সংখ্যা ৬,৪৭৯ জন।
অসলো ভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, দেশব্যাপী এই প্রোটেস্টের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৪০,০০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্প ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে "সাহায্য আসছে।" তবে এর একদিন পরেই তিনি সামরিক হামলার হুমকি থেকে সরে আসেন এবং দাবি করেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত রয়েছে।