ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২২ মাঘ ১৪৩২, ১৬ শা'বান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
দেশে এসেছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪ জন প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট
Scroll
নারীর কর্মঘণ্টা হ্রাস, নিরাপত্তাসহ আরো যা আছে জামায়াতের ইশতেহারে
Scroll
জেন জি স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করলেও নির্বাচনে জিততে যাচ্ছে পুরনো দল: বিবিসি প্রতিবেদন
Scroll
পত্রিকা: ’চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ, ভিড়ছে না জাহাজ’
Scroll
বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে বিজিএমইএর জরুরি বৈঠক
Scroll
’সমতা ভিত্তিক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রত্যাশা ডা. জুবাইদা রহমানের
Scroll
ক্রিকেটার জাহানারা আলমকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ’প্রাথমিক সত্যতা’ পেয়েছে বিসিবি
Scroll
জাপানে ভারী তুষারপাতে ৩০ জনের প্রাণহানি
Scroll
মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স পাচ্ছেন ইরানের নারীরা
Scroll
৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরাঞ্চলের ৩ জেলা সফর করবেন তারেক রহমান
Scroll
তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছে দ্য ডিপ্লোম্যাট
Scroll
সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য জনমুখী নীতিমালার আহ্বান বাংলাদেশের
Scroll
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ ইসির
Scroll
সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
Scroll
সবচেয়ে খারাপ স্বাস্থ্য সংকটে ১ বিলিয়ন ডলার সাহায্য চাইছে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা
Scroll
প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত
Scroll
মুম্বাই বিমানবন্দরে ২ বিমানের ডানা ঘর্ষনের ঘটনা তদন্ত করছে ভারত
Scroll
’বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা বিপন্ন,’ সতর্কবার্তা এইচআরডাব্লিউ-এর
Scroll
৩ লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট এখন দেশে
Scroll
ট্রাম্প ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন বিলে স্বাক্ষর, সরকারি অচলাবস্থার অবসান

বাংলাদেশ

জেন জি স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করলেও নির্বাচনে জিততে যাচ্ছে পুরনো দল

বিবিসি

প্রকাশ: ০৯:৪৩, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৪৪, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জেন জি স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করলেও নির্বাচনে জিততে যাচ্ছে পুরনো দল

প্রতীকি ছবি: বিবিসি-এর সৌজন্যে।

জেন জি এক স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে - তবে বাংলাদেশের নির্বাচনে পুরনো দলগুলোই জিততে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাহাত হোসেন তার বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রায় মরতে বসেছিলেন এমন এক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সেই বিপ্লবের সময় পুলিশের গুলিতে আহত ইমাম হাসান তাইম ভূঁইয়াকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।

২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিক্ষোভ দমনের সময় ২৪ বছর বয়সী হোসেন এবং ১৯ বছর বয়সী ভূঁইয়া ঢাকার একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে, মারধর করে এবং দৌড়াতে নির্দেশ দেয়।

এরপর ভূঁইয়াকে গুলি করা হয়। তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে হোসেন তাকে টেনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ অবিরাম গুলি চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে হোসেনের পায়েও গুলি লাগে। হোসেন বলেন, "আমাকে তাকে ফেলে রেখেই চলে আসতে হয়েছিল।" পরে হাসপাতালে ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এই ধরনের সহিংসতা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকে দেশব্যাপী এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেওয়ার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা। দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই বিক্ষোভে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই হাসিনার নির্দেশে চালানো নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মারা গেছেন।

হাসিনার পতনের পর দেশটিতে একটি নতুন যুগের প্রতিশ্রুতি দেখা গিয়েছিল। এই অভ্যুত্থানকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জেন জি-র প্রতিবাদের প্রথম এবং সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের কয়েকজন ছাত্র নেতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ করেন এবং তারা যে দেশের স্বপ্ন নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই দেশ গড়ার চেষ্টা শুরু করেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েক দশকের শাসনের পর ধারণা করা হয়েছিল, আগামী দিনের সরকার পরিচালনায় এই তরুণরাই বড় ভূমিকা রাখবেন।

তবে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলটি মারাত্মকভাবে বিভক্ত এবং এই আন্দোলনে নারীদের যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তারা এখন অনেকটাই কোণঠাসা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত পুরনো দলগুলোই এখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে।

হোসেন ২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন—যেখানে তরুণ-তরুণী, ধর্মপ্রাণ ও ধর্মনিরপেক্ষ সবাই একত্রিত হয়েছিলেন। শুরুতে এটি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও, পরবর্তীতে তা স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের একটি অভিন্ন লক্ষ্যে রূপ নেয়।
বিবিসি-কে হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার প্রত্যাশা অনুযায়ী "শান্তি, সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ" গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।

ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) অনভিজ্ঞ—এমন ধারণা শুধু হোসেনেরই নয়। বরং তিনি একটি অনেক পুরনো দল ‘জামায়াতে ইসলামী’র কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ। এটি একটি ইসলামপন্থী দল যারা এর আগে ছোট জোটসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দলটি নিজস্ব গতিতে জনসমর্থন পাচ্ছে, যেখানে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের অবস্থানের কারণে সবসময়ই বিতর্কিত। সেই যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিল এবং ১ কোটিরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল। জামায়াতের কিছু নেতার বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে দখলদারদের সহযোগিতার অভিযোগ ছিল।

তবে সেই ইতিহাস হোসেনকে খুব একটা বিচলিত করছে না। তিনি বিশ্বাস করেন, জামায়াত এখন আধুনিক হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ও ছাত্রদের জামায়াত বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়েছে।"

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিবিসি-কে বলেছেন, তারা দুর্নীতি নির্মূল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ দুর্নীতির এই দেশে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হলেও তা অনেকের মনেই সাড়া ফেলেছে।

ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তৌফিক হক বলেন, তরুণ ভোটারদের অধিকাংশেরই জন্ম ১৯৭১ সালের অনেক পরে। তারা জামায়াতকে তার অতীত ইতিহাস থেকে আলাদা করে দেখতে পারে এবং একে কোনো বাধা হিসেবে মনে করে না। তিনি আরও বলেন, "এটি একটি প্রজন্মগত বিষয়; তারা পুরনো বিতর্কে আটকে থাকতে চায় না।"

হকের মতে, তরুণ ভোটাররা জামায়াতকে হাসিনার শাসনের শিকার হিসেবে দেখেছে, যেহেতু দলটি রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ছিল এবং তাদের অনেক নেতা কারাবন্দী ছিলেন।

শুধুমাত্র হোসেনই জামায়াতের দিকে ঝুঁকছেন না; গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দলটির ছাত্র সংগঠন সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল জয় পেয়েছে। জাতীয় জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা এই নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নিয়ন্ত্রণ প্রথমবারের মতো কোনো ইসলামপন্থী দলের হাতে গেছে। আর এটিই ছিল ছাত্র নেতাদের জন্য সংকটের প্রথম বড় লক্ষণ, কারণ বাংলাদেশে প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৪ জনের বয়সই ৩৭ বছরের নিচে।
একটি বিতর্কিত আপস

এনসিপি-র ওপর আস্থার অভাব ছাত্র নেতাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং এনসিপি-র নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ (২৭) স্বীকার করেন, "আমরা আরও ভালো ফলের আশা করছিলাম।" তবে তার দাবি, পরিস্থিতি তাদের প্রতিকূলে ছিল: "বিগত ৫০ বছর ধরে মাত্র দুটি দল দেশ চালিয়েছে... আমরা নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করছি।"

এই পরিস্থিতিতে এনসিপি একটি সিদ্ধান্ত নেয়। ডিসেম্বরে তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একটি বহুদলীয় জোট ঘোষণা করে।

জামায়াতের মতো এনসিপি-ও দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তাদের ইশতেহারে রয়েছে—অভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করা, ভোটাধিকারের বয়স কমিয়ে ১৬ করা এবং কর ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

আসিফ মাহমুদের যুক্তি হলো, আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর সহায়তা এনসিপি-র প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, "আমরা সবসময়ই বলেছি আমরা কোনো ইসলামপন্থী দল নই; এটি আদর্শিক কোনো জোট নয়।"

তবে জামায়াত এনসিপি-কে যে ৩০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, তার মধ্যে মাত্র দুজন নারী। অন্যদিকে, জামায়াতের নিজেদের ২০০-র বেশি প্রার্থীর সবাই পুরুষ।

তাসনিম জারার মতো এনসিপি-র জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যরা এই আপসকে "নৈতিক লাল রেখা" অতিক্রম করা হিসেবে দেখছেন। একারণেই তিনিসহ আরও বেশ কয়েকজন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সীমা আক্তার বলেন, "তারা আমাদের পাশ কাটিয়ে যেতে চেয়েছিল।"

সীমার মতে, অভ্যুত্থানে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে এখনও পুরুষদেরই আধিপত্য।
"নারীরা কোথায়?" অভ্যুত্থানের পর সীমা এবং অন্যান্য নারী আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টার্গেট করা হয়েছিল। সীমা আক্ষেপ করে বলেন, "কিছু ভিডিও ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং হতাশাজনক। আমাদের 'স্লাট শেমিং' করা হয়েছে, ট্রোল করা হয়েছে।" অনলাইনে তাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, এমনকি সীমার গায়ের রঙ নিয়ে আক্রমণ করাও বাদ যায়নি।

নারীদের পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দুই দলই অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নারী প্রার্থীর এই সংখ্যা বাংলাদেশের "সামাজিক কাঠামোর" প্রতিফলন। জামায়াতের শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। তবে সীমা একে "পিতৃতান্ত্রিক অজুহাত" হিসেবেই দেখছেন। তিনি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, যারা ২৫০ জনের বেশি প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। সীমার ভাষায়, "মন্দের ভালো।"
বংশীয় রাজনীতি কি থেকেই যাবে?

এনসিপি-র জনসমর্থন কমে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে বিএনপি। তারা নিজেদের এখন একটি উদার গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। আওয়ামী শাসনের সময় হাজার হাজার নেতাকর্মীর কারাবরণ এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপি এখন একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ছাত্রদের দলটিকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে।

আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি-ও একটি রাজনৈতিক বংশের সাথে জড়িত। দলটির বর্তমান নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে। বিএনপির প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিবিসি-কে বলেন, "কেউ বংশীয় রাজনীতি থেকে এসেছেন কি না তা এখন অপ্রাসঙ্গিক।"

হাসিনার প্রস্থানের পর ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে তারেক রহমানের ফিরে আসা এবং মা-ছেলের দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পাওয়া—সবই সম্ভব হয়েছে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এই অভ্যুত্থানের বদৌলতে। তারেক রহমান জামায়াতের "ধর্মীয় কার্ড" ব্যবহারের সমালোচনা করে একটি "রেইনবো নেশন" বা বৈচিত্র্যময় জাতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের অবস্থান

শেখ হাসিনা ১৫ বছর দেশ শাসন করেছেন। তার আমলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও বিরোধী মত দমনে গুম, খুন এবং রাজনৈতিক মামলার অভিযোগ ছিল পাহাড়সম। গত বছর বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

ভারত থেকে হাসিনা তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আত্মগোপনে থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতা সতর্ক করে বলেছেন, "আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলে আমাদের সমর্থকরা নির্বাচন প্রতিরোধ করবে।"
ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তোলা অভিযোগগুলোকে তিনি "মিথ্যা" এবং "বানোয়াট" বলে অভিহিত করেছেন।

আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবেন তাদের এই বিপ্লব এবং রক্তপাত শেষ পর্যন্ত সার্থক হলো কি না।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের পাশে বসে হোসেন এখনও সেই সব পুলিশ সদস্যদের বিচারের অপেক্ষায় আছেন, যাদের হাতে তিনি তার বন্ধুকে হারিয়েছেন।

নিহত তাইম ভূঁইয়ার বাবা নিজেও একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ছেলের মরদেহ শনাক্ত করার পর তিনি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "স্যার, একটা ছেলেকে মারতে কয়টা গুলি লাগে?"

হোসেন বলেন, সেই দিনের স্মৃতি এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। ঘটনার আট দিন পর যখন ইন্টারনেট সচল হয়, তখন তিনি সেই ভিডিওটি দেখেন। হোসেন বলেন, "ভিডিওতে আমার আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছিল... আমি অঝোরে কেঁদেছিলাম।"

এক বছর পর, ৫ আগস্ট তিনি তার অন্য সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে হাসিনা সরকারের পতনের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করেন।

তবে হোসেন স্বীকার করেন যে, তাদের কাঙ্ক্ষিত "নতুন বাংলাদেশ" এখনও আসেনি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি নির্বাচিত সরকার দেশ সংস্কার না করা পর্যন্ত তা সম্ভব নয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "তেঁতুল গাছ থেকে তো আর আম আশা করা যায় না।"

 

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন