শিরোনাম
বিবিসি নিউজ বাংলা
প্রকাশ: ০৯:৪৩, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রধান শিরােনাম 'সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি নিয়ে জটিলতা' । খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন রোজার মাসেই বসতে পারে বলে জানা গেছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দ্রুত সরকার গঠন, সংসদ সদস্যদের শপথ এবং নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল হলেও সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর মুখে দেখা দিয়েছে সাংবিধানিক জটিলতা।
প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে- এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
স্পিকার পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন, আর ডেপুটি স্পিকার কারান্তরীণ। ফলে সভাপতিত্বের প্রশ্নে তৈরি হয়েছে কার্যত এক সাংবিধানিক শূন্যতা।
এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন কি না, তা নিয়েও চলছে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।
একই সাথে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও একটি বিষয়ে স্পষ্ট- যে পদ্ধতিতেই গঠন হোক, দ্বিকক্ষের উভয় কক্ষেই বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের পদ সংরক্ষিত থাকবে।
সমকালের একটি শিরােনাম 'সংরক্ষিত নারী আসনেও 'এক পরিবারে এক প্রার্থী' নীতি'। এ খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেও 'এক পরিবারে এক প্রার্থী' নীতি অবলম্বন করবে বিএনপি।
এতে অনেক নতুন মুখের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। যেসব পরিবারে ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান; গঠন করা হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভাও।
এবার আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা।
দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ মুখ– অনেকেই আছেন এই তৎপরতায়।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি।
আজকের পত্রিকার প্রধান শিরােনাম 'ঢাকা-দিল্লি বরফ গলছে'। এ খবরে বলা হয়েছে, দেড় বছরের অস্বস্তিকর দূরত্বের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবার স্বাভাবিকতার পথে এগোচ্ছে—এমনই ইঙ্গিত মিলছে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায়।
স্থবিরতার এই সময়টিকে 'জমে থাকা বরফ'-এর সঙ্গে তুলনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁরা বলছেন, সম্পর্কের সেই বরফ আবার গলতে শুরু করেছে, তবে তা ধীরে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে।
প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক ভয়ানক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর।
অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেড় যুগের এক বিশেষে প্রেক্ষাপটের পর এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তার সঙ্গে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে দিল্লির অবস্থানে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ভারতও তার দিক থেকে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে।
সব মিলিয়ে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকা, বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা ও ভিসা জটিলতায় জন-অসন্তোষ বেড়ে যায় বহুগুণ।
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চীন-ভারত প্রতিযোগিতাও সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
দেশে নির্বাচনের পর গত সপ্তাহে দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার।
শপথ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা নিয়ে। সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, বন্ধুত্ব থাকবে; কিন্তু সেটা হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।'
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরােনাম 'Us tariff turmoil: Uncertainties loom over Dhaka's trade prospects' - অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক নীতির ফলে বাণিজ্য সম্ভবনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত আমেরিকান বাজারে ভোক্তা চাহিদা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির জন্য অর্ডার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে সম্ভাবনার ব্যাপারটি অনিশ্চিত থেকে যাবে, বিশেষ করে যেহেতু ঢাকা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরপরই, মি. ট্রাম্প সব দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, আর এর পরপরই বাংলাদেশের মত দেশগুলাের জন্য অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়ে ওঠে। ।
শনিবার ট্রাম্প শুল্ক আরও বাড়িয়ে নিয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন।
প্রায় একই ধরণের শিরােনাম প্রথম আলাের 'ট্রাম্পের নতুন শুল্কহার, বাংলাদেশের কী হবে'।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ৯ ফেব্রুয়ারি। সে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার ১৯ শতাংশ।
দুই সপ্তাহ পার না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বিকল্প পথও বেছে নিয়েছেন।
রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন তিনি। আর শনিবার তা আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও কেউ এ নিয়ে স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।
আবার ১০ শতাংশের বিষয়টি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, তা–ও কেউ নিশ্চিত নন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্কহারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে।
বণিক বার্তার প্রধান খবর 'নগদে আগ্রহী জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার আরমান'। খবরে বলা হয়েছে, দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবা 'নগদ'-এ বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি 'নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস' বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
নগদকে নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় দেয়ার পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
এক্ষেত্রে তিনি দেশী-বিদেশী বহুজাতিক বিনিয়োগ সংস্থার স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।
বিনিয়োগ আগ্রহের ধারাবাহিকতায় গভর্নর বরাবর নগদের ফরেনসিক অডিট করার আবেদন করেছেন।
৮ ফেব্রুয়ারি এ আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
দেশ রূপান্তরের একটি সংবাদ 'সুবিধাভোগী পুলিশের সন্ধানে পুলিশ'। খবরে বলা হচ্ছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেড় বছর ক্ষমতায় ছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
পুলিশের কিছু কর্মকর্তা পতিত সরকারের আমলে যেন ক্ষমতাধর ছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তাদের প্রভাব কম ছিল না। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদেরই লেজুড়বৃত্তি করেছেন তারা।
বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে কাজ শুরু করেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আর এ অবস্থাতেই পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাহিনীর যারা সব সরকারের আমলেই সুবিধা নিয়ে আসছেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ নিতে সরকারের হাইকমান্ড থেকে গোপন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বার্তা পেয়ে পুলিশের দুটি ইউনিটসহ গোয়েন্দারা কাজও শুরু করে দিয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে কয়েকজন অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টরসহ দেড় শতাধিক কর্মকর্তার বিষয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তাদের একটি তালিকা করে আরও গভীরে গিয়ে তদন্তও শুরু করেছে একাধিক সংস্থা।