শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৭:১৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: বাসস।
রাজধানীর খিলক্ষেতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র ইকরাম হোসেন মোল্লাকে (২২) হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. সিদ্দিক (২৩) ও মো. শান্ত মিয়া (২২)।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি লাশ গুমের অপরাধের জন্য তাদেরকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত।
জরিমানা অনাদায়ে তাদেরকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ মে রাতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ইকরামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু শান্ত মিয়া ও সিদ্দিক।
এরপর খিলক্ষেত থানাধীন পাতিরা ও ডুমনি এলাকার মাঝামাঝি বসুন্ধরা বালুর চরে নিয়ে তাকে হাতুড়ি ও ভোমর দিয়ে আঘাত করে এবং এন্টিকাটার দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবায় ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
২০২৩ সালের ৬ মে পুলিশ ওই স্থান থেকে ইকরামের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচার চলাকালে ১৭ জন সাক্ষী বিভিন্ন সময় আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মোহাম্মদপুরে আমির হোসেন হত্যা : দম্পতিসহ ৫ জনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারে মো. আমির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় কবির হোসেনসহ পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— কবির হোসেনের স্ত্রী স্বপ্না, তার ভাই মো. হুমায়ুন, মো. ফালান ও মো. মিলন ওরফে নূরু।
আজ ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত আদালতের বিচারক মো. খোরশেদ আলম এই রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরো এক বছর কারাভোগ করতে হবে।
আদালতের পেশকার মিলন হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিহত আমির হোসেন রাজধানীর পলাশীর মোড়ে চা-সিগারেটের দোকান চালাতেন। হত্যার সাত থেকে আট মাস আগে স্বপ্না বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীকে মারধর করেন।
২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি রাত ১০টায় দোকান বন্ধ করার পর স্বপ্নার স্বামী কবিরসহ চারজন কৌশলে আমিরকে মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন স্বপ্না। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমিরের ওপর আক্রমণ করে আসামিরা। কবির চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পরের দিন নিহতের ভাই মো. জাকির হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় স্বপ্না ও তার স্বামী কবিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে কবিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
৪ ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
জোরপূর্বক নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে এক যুবতীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, নিজাম, মনির হোসেন সেন্টু ও সাইফুল ইসলাম।
আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী যুবতী তার এক বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদ এলাকায় বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন আসামি তাকে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গার মাঝখানে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে একটি বাড়ির কক্ষে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ চার আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার বিচার চলাকালে আটজন বিভিন্ন সময়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।