শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৮:৩৭, ২১ মার্চ ২০২৬
ছবি: বাসস কর্তৃক সংগৃহীত।
ঈদের দিন মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, মাঝেমধ্যে ঝরছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এর মধ্যেও দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায়। নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজির হয়েছেন চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গনে।
বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, হরিণ, জলহস্তি, গন্ডার দেখে অনেকেই যেন ফিরে গেছেন শৈশবে। সাধারণ মানুষ বলছেন, লম্বা ছুটিতে এবার ঈদ উদযাপন হচ্ছে মন খুলে।
আজ শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেখা যায় এমন দৃশ্য। ঈদের লম্বা ছুটিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বরাবরের মতোই আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় চিড়িয়াখানায় নেয়া হয়েছে জোরদার ব্যবস্থা। দিনে প্রায় দেড় লাখ দর্শনার্থী ঘুরে বেড়াবেন চিড়িয়াখানায় এমন প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।
শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দর্শনার্থীর ভিড়। ১৩৭ প্রজাতির ৩ হাজারেরও বেশি পশু-পাখির এই রাজ্যে ছোট-বড় সব বয়সি মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জাতীয় চিড়িয়াখানায় বানর, হাতি, ভাল্লুক, জলহস্তিদের কাণ্ডকারখানা দেখে আনন্দে আত্মহারা সবাই। এক প্রান্তে যখন দল বেঁধে চড়ে বেড়াচ্ছে হরিণ, অন্যপ্রান্তে লম্বা গলা বাড়িয়ে জিরাফ যেন স্বাগত জানাচ্ছে আগত দর্শণার্থীদের। সিংহের খাঁচার সামনেও কমতি নেই উচ্ছ্বাসের। শিশুদের উচ্ছাস তো আছেই, বড়রাও যেন ফিরে গেছেন শৈশবে।
রাজধানীর আজিমপুর থেকে আসা দর্শনার্থী সুমাইয়া ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একটু খোলা জায়গায় আসতে চেয়েছিলাম। একসঙ্গে বাঘ, সিংহ আর এত রকমের পাখি দেখে বাচ্চারা খুব খুশি। বৃষ্টির জন্য আবহাওয়াটাও বেশ চমৎকার।’
ধানমন্ডি থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন চাকরিজীবী রফিক আহমেদ। তিনি বলেন, ছোট মেয়ে ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। বলেছিলাম পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে চিড়িয়াখানা নিয়ে যাবো। রেজাল্ট ভালো করেছে, তাই চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসলাম। বেশিরভাগ খাঁচা ঘোরা শেষ। মেয়েরা সাপ দেখে বেশি মুগ্ধ হয়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুসহ সব বয়সী দর্শনার্থীর নিরাপত্তায় চিড়িয়াখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন। ঈদের দিন কয়েক লাখ দর্শনার্থী সমাগম প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২২ মার্চ) ও সোমবার (২৩ মার্চ) এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা।