শিরোনাম
বণিক বার্তার সৌজন্যে
প্রকাশ: ১৯:১৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি।
সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই, অর্থাৎ রমজানের আগেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ফলাফলের গেজেট নোটিফিকেশনের পর যত দ্রুত সম্ভব সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে।
ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত জেনজি ভোটাররা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নির্বাচনে বড় প্রভাবক হিসেবে বিবেচিত তরুণ ভোটার বিশেষ করে জেনজি প্রজন্ম। ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের অধিকাংশই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর সিংহভাগ ভোটকেন্দ্রে সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ধানমন্ডি, বনানী, ফার্মগেট, তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের সন্তুষ্টি ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ ভবনের বিপরীতে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের লম্বা লাইন। তাদের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। প্রথমবার ভোট দিতে আসা মারিয়া তহুরা বলেন, জীবনের প্রথম ভোট, তাই ঠিকঠাকভাবে ভোট দেয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল কিন্তু কেন্দ্রে এসে তা কেটে গেছে। আশা করছি ভালোভাবেই ভোট শেষ হবে, তবেই দেশে শান্তি আসবে।
বেলা ১২টার দিকে ধানমন্ডির ড. মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে কথা হয় ফারহানের সঙ্গে। বন্ধুদের নিয়ে প্রথমবার ভোট দিতে আসেন তিনি। ফারহান বণিক বার্তাকে বলেন, এত সহজে ভোট দেয়া যাবে ভাবিনি। সবকিছু সুশৃঙ্খল ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ভোটার স্লিপ দেখে কোন কক্ষে যেতে হবে তা বলে দিচ্ছিলেন। ফলে অল্প সময়েই ভোট দিতে পেরেছি।
দুপুর ১টার দিকে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় তরুণ ভোটাররা উৎসাহ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। তাদের একজন শরিফ আরমান। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। প্রথমবার ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। তবে ভোটার উপস্থিতি কম মনে হয়েছে। দুপুরের পর আরো অনেক ভোটার কেন্দ্রে আসবে বলে মনে হচ্ছে।’
একই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সাইমুম বলেন, এ ভোটের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। আশা করছি সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। তবেই গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হবে।
ঢাকা-১৭ আসনের টিঅ্যান্ডটি উচ্চ বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় জেনজি ভোটার মো. মুন্না গাজীর সঙ্গে। তিনি প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। মুন্না বণিক বার্তাকে বলেন, এবারই প্রথম ভোট দিলাম। খুব ভালো লাগছে। সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভিড় রয়েছে। নতুন ভোটাররা বেশ উৎসাহ নিয়ে এসেছে ভোট দিতে।
পারভেজ হোসেন নামে আরেক ভোটার বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। প্রথমবার ভোট দিলাম এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী দিতে পেরেছি। আগের দুই নির্বাচনে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেয়ার চাপ ছিল বলে শুনেছি। তবে এবার ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছে বলে মনে হয়েছে। সেজন্য ভোট দিয়ে আরো বেশি উচ্ছ্বসিত মনে হচ্ছে।
বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ফারুক হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিলেও এবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। এবার ভোটের পরিবেশ বেশি উৎসবমুখর। অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।