শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:০৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং তেহরান ও শিপিং সেক্টরে যেকোনো হামলার আশঙ্কায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে এমন উদ্বেগে বৃহস্পতিবার সকালে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।
গ্রীনিচ মান সময় ০৮:০১-মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ১৯ সেন্ট বা ০.২৭% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৯.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ২০ সেন্ট বা ০.৩১% বেড়ে হয়েছে ৬৪.৮৩ ডলার, খবর মালযেশিয়ার দ্য স্টারের।
উভয় বেঞ্চমার্কই বুধবার চড়া দামে লেনদেন শেষ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার কারণে ব্রেন্ট ফিউচার ০.৮৭% এবং ডব্লিউটিআই ১.০৫%-এর বেশি বৃদ্ধি পায়।
বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের বিষয়ে কীভাবে এগোনো যায় সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তারা পৌঁছাতে পারেননি। তবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন, যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কূটনীতিকরা পরোক্ষ আলোচনা চালিয়েছেন। তবে পরবর্তী দফার আলোচনার তারিখ ও স্থান এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
আইজি বিশ্লেষক টনি সিকামোরের মতে, তেলের দাম ৬৫-৬৬ ডলারের ওপরে স্থায়ী হতে হলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও উত্তেজনার প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি শান্ত হলে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা ডব্লিউটিআই-এর দাম আবারও ৬০-৬১ ডলারে নামিয়ে আনতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, জানুয়ারিতে কর্মসংস্থান অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে এবং বেকারত্বের হার কমে ৪.৩% হয়েছে, যা শক্তিশালী অর্থনীতির ইঙ্গিত দেয়। চায়না ফিউচারসের প্রধান গবেষক মিংইউ গাও বলেন, মার্কিন অর্থনীতির এই স্থিতিশীলতা তেলের চাহিদার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ব্যাপক মজুদ মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে তেলের মজুদ ৮.৫ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়ে ৪২৮.৮ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা রয়টার্সের জরিপে করা বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশিত ৭৯৩,০০০ ব্যারেলের চেয়ে অনেক বেশি।
গাও আরও জানান, বছরের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ প্রত্যাশার চেয়ে কম বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অবস্থান এখনও অতি-ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে ইউএস-ইরান পরিস্থিতি, রাশিয়ার তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং রপ্তানি হ্রাসের আশঙ্কায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।