ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
সরকার চাইলে সব ধরনের সহায়তা করবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
Scroll
এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল হচ্ছে কোন ইসলামী দল: প্রতিবেদন
Scroll
বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান
Scroll
কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি
Scroll
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি: সালাউদ্দিন আহমদ
Scroll
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে দরকার সৎ আত্মসমালোচনা
Scroll
নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি
Scroll
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ
Scroll
গ্রীনল্যান্ড: দূর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পওয়া গেল
Scroll
হ্যাঁ জয়ী হলেও, ভিন্নমত থাকায় জুলাই সনদের যে বিষয় বাস্তবায়ন হবে না
Scroll
বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রশংসা, বিএনপিকে জাপানের শুভেচ্ছা
Scroll
পত্রিকা: ’ছোট মন্ত্রিসভায় যাঁদের নাম’
Scroll
বাংলাদেশকে বুঝতে আল মাহমুদ পাঠ অপরিহার্য
Scroll
জামায়াত আমির ও নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ তারেক রহমানের
Scroll
দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিমকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা
Scroll
মঙ্গলবার সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি
Scroll
নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে: ইসি
Scroll
জ্বালানি সংকটে কিউবার বিখ্যাত চুরুট মেলা স্থগিত

ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর প্রতিবেদন

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল হলো কোন ইসলামী দল

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০:৩৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৯, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল হলো কোন ইসলামী দল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান নির্বাচনের আগে সিলেটে এক জনসভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন। ফাইল ছবি, বাসস।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ইসলামপন্থী দল প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে জামায়াত একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন, যা দলটির জন্য একটি নতুন রেকর্ড।

এর আগে কোনো নির্বাচনেই দলটি ১৮টির বেশি আসন পায়নি। এছাড়া ছাত্র নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক শক্তি (এনসিপি) ৬টি এবং বাকি আসনগুলো অন্যান্য ছোট দলগুলো পেয়েছে, খবর ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর। 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১২টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাঘরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মহলেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ এবং চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশের এই স্থিতিশীলতা বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের অন্য প্রধান দল আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে এই নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান শুরুতে নির্বাচনে কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুললেও পরে ফলাফল মেনে নেন। তিনি জানান, তারা একটি নীতিবান ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কাজ করবেন।

জামায়াতের এই ফলাফল অনেকের জন্যই বিস্ময়কর, কারণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার ইতিহাস রয়েছে দলটির। তৎকালীন সময়ে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও তারা বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দলটির বেশ কয়েকজন নেতার বিচার ও দণ্ড কার্যকর করা হয়। জামায়াত অবশ্য সবসময়ই দাবি করে আসছে যে, ওই বিচারগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দলটি বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে জামায়াত পুনরায় প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাইমুল আহসান খান এনপিআর-কে বলেন, "অনেক ভোটার তরুণ এবং তারা অতীতে পড়ে থাকতে চায় না। তারা ভবিষ্যৎ গড়তে চায়। জামায়াত এমন কিছু কথা বলছে যা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত এবং অর্জনযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।" তবে তিনি আরও যোগ করেন, "আমার মনে হয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতার সেই দায়ভার না থাকলে জামায়াত আরও বেশি আসন পেত।"

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ হতে পারে। শফিকুর রহমান বলেন, "৭৭টি আসনের মাধ্যমে আমরা সংসদে আমাদের উপস্থিতি প্রায় চার গুণ বাড়িয়েছি এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছি। এটি কোনো পিছিয়ে পড়া নয়, বরং একটি ভিত্তি।"
নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা মুসলিম হলেও দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে। জামায়াতের গঠনতন্ত্রে শরিয়াহ আইনের কথা থাকলেও সম্প্রতি তারা তাদের জনভাবমূর্তি কিছুটা নমনীয় করেছে। তারা ধর্মের বিষয়ে আরও মধ্যপন্থী সুর গ্রহণ করেছে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা জানিয়েছে।

নির্বাচনে দলটি একজন হিন্দু প্রার্থী দিলেও কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে বলেছেন যে, কোনো নারী এই দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। তবে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাবেক কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ এনপিআর-কে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এটি কেবল আদর্শগত কারণে নয়, বরং প্রায়ই অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কারণে ঘটে থাকে। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুরা বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ—উভয় দলের মাধ্যমেই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নারীদের প্রতি দলের আচরণের বিষয়ে ড্যানিলোভিচ বলেন, "তারা বিষয়টিকে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে নারীর ভূমিকা রক্ষার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে।"

জামায়াতের জন্য এখন প্রথম পরীক্ষা হলো নতুন সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং 'জুলাই ন্যাশনাল চার্টার' (স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়া রোধে সংস্কারের একটি সেট) বাস্তবায়ন করা। এটি সেই লাখো বাংলাদেশিকে আশ্বস্ত করতে সাহায্য করতে পারে যারা এখনও দলটিকে বিশ্বাস করতে দ্বিধাবোধ করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন