শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:৫৮, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৩:০১, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে মাদাগাস্কারে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে মাদাগাস্কারে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।
উপকূলীয় শহর তোয়ামাসিনায় ২৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে মাদাগাস্কারে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দেশটির নেতা "আন্তর্জাতিক সংহতি" ও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার রাতে ঘূর্ণিঝড় গেজানি উপকূলে আঘাত হানার পর অন্তত ৩৮ জন নিহত, ৬ জন নিখোঁজ এবং কমপক্ষে ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন, খবর রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের।
ঝড়টি সরাসরি মাদাগাস্কারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তোয়ামাসিনায় (তামাতাভে নামেও পরিচিত) আঘাত হানে, যেখানে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের বসবাস।
চার মাস আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা মাদাগাস্কারের নতুন নেতা কর্নেল মাইকেল আন্দ্রিয়ানিরিনা জানান, প্রচণ্ড বাতাস এবং প্রবল বর্ষণে শহর ও এর আশপাশের এলাকার "প্রায় ৭৫ শতাংশ" বিধ্বস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য "আন্তর্জাতিক সংহতি"র আহ্বান জানান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর-এর তথ্যমতে, ১৮,০০০-এর বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৫০,০০০-এর বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ১২,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ঝড়টি পার্শ্ববর্তী আতসিনানানা অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষতি করেছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনও চলছে।
সতর্ক অবস্থায় মোজাম্বিক
ফরাসি দ্বীপ রিইউনিয়নের ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্র (CMRS) জানিয়েছে, তোয়ামাসিনা শহরটি ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশের সরাসরি আঘাতের শিকার হয়েছে। তারা এই ল্যান্ডফলকে এই অঞ্চলে রেকর্ড করা অন্যতম শক্তিশালী ঝড় হিসেবে বর্ণনা করেছে—যার তুলনা করা চলে ১৯৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড় জেরাল্ডার সাথে, যাতে অন্তত ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
স্থলে পৌঁছানোর পর ঘূর্ণিঝড় গেজানি কিছুটা দুর্বল হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত ক্রান্তীয় ঝড় হিসেবে মাদাগাস্কারের পূর্ব থেকে পশ্চিমে অগ্রসর হতে থাকে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মোজাম্বিক চ্যানেলে পৌঁছানোর পর এটি পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং "তীব্র ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়" (ক্যাটাগরি ৪) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ এটি দক্ষিণ মোজাম্বিকে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে, যে দেশটি বছরের শুরু থেকেই মারাত্মক বন্যার কবলে রয়েছে।
সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম চলে এবং প্রতি বছর প্রায় এক ডজন ঝড় তৈরি হয়।