শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:১৯, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৭, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় বিশাল এলাকায় ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের তাণ্ডবে বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত এই জনপদে কিছু কিছু এলাকায় বাতাসের প্রবাহজনিত ঠান্ডা বা উইন্ড চিল (wind chill) হিমাঙ্কের নিচে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গেছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত কম রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই বৈরী আবহাওয়ায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে—যাদের মধ্যে তিনজন টেনেসিতে, দুইজন লুইজিয়ানায় এবং টেক্সাস ও কানসাসে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন, খবর এনবিসি নিউজের।
ঝড়কবলিত এলাকায় ৮ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন। জর্জিয়া থেকে ক্যারোলাইনা এবং মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে হিমশীতল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া ওহাইও ভ্যালি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে; ওহাইওর কিছু অংশে ইতোমধ্যে ১৭ ইঞ্চির মতো তুষারপাত হয়েছে।
আগামীকাল রাত পর্যন্ত নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় টানা তুষারপাত হতে পারে। বোস্টন এবং নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে ১৬ থেকে ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমার সম্ভাবনা রয়েছে। কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড এবং মেইন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে।
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে, তবে তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাত আরও কিছুদিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে; আজ ১২ হাজারের বেশি এবং আগামীকালকের জন্য নির্ধারিত ৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এবিসি নিইজ যোগ করেছে:
ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনস এবং বিমানবন্দরগুলো রবিবার একটি চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল এবং বিলম্বের ঘটনা ঘটছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস শনিবার রাতে জানায় যে, দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এলাকায় তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি এবং হিমশীতল বৃষ্টির কারণে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ—যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি—ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল তছনছ করার পর ঝড়টি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ওয়াশিংটন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং বোস্টন পর্যন্ত ১ থেকে ২ ফুট (৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার) তুষারপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট 'ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার' (FlightAware)-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৩,৫০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯,৬০০টি ফ্লাইট ছিল রোববারের। এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স কোম্পানি 'সিরিয়াম' (Cirium) জানিয়েছে, করোনা মহামারীর পর এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মোট ফ্লাইটের প্রায় ২৯ শতাংশই বাতিল করতে হয়েছে।
ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, তাদের নির্ধারিত ৪১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৯৭ শতাংশই বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, শার্লট, ফিলাডেলফিয়া এবং আটলান্টার মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলোর পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের জেএফকে (JFK) এবং লাগুয়ার্ডিয়া বিমানবন্দরেও ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে আমেরিকান এয়ারলাইনস রোববারের ১,৪০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ডেল্টা এবং সাউথওয়েস্ট প্রতিটি প্রায় ১,০০০টি করে এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ৮০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। জেটব্লু (JetBlue) তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৭০ শতাংশ বা প্রায় ৫৬০টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।