শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:০৯, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
প্রতীকি ছবি: বাসস।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, খবর বাসসের।
তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে, রিপোর্ট বাসসের।
এদিকে, জেমিনাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে যাওয়া বিষয়ক এক প্রশ্নের উত্তরে লিখেছে:
রিজার্ভ বৃদ্ধি সব সময়ই কেবল ইতিবাচক নয়, এর নেপথ্যে কিছু ঝুঁকি বা দুর্বলতা থাকতে পারে:
অব্যবহৃত সম্পদের খরচ: রিজার্ভের অর্থ সাধারণত অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম লাভজনক সম্পদের (যেমন মার্কিন ট্রেজারি বিল) বিনিয়োগ করা হয়। যদি রিজার্ভ অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তবে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হতে পারত এমন একটি বড় অঙ্কের অর্থ অব্যবহৃত বা কম উৎপাদক হিসেবে থেকে যায়।
মুদ্রাস্ফীতির চাপ (Inflationary Pressure): যদি রিজার্ভের এই বৃদ্ধি মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাজার থেকে ডলার কিনে টাকা বাজারে ছাড়ার কারণে হয়, তবে বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক মন্দার লক্ষণ (Disguised Slump): যদি আমদানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার কারণে রিজার্ভ বাড়ে, তবে তা মন্দার লক্ষণ হতে পারে। অর্থাৎ, মানুষ যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি আমদানি করতে না পারে, তার মানে হলো শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ হ্রাস পাচ্ছে।
অপরদিকে, এটি দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আমদানি বিল, বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিল পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ায়।
বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) এই রিজার্ভ ব্যবহার করে প্রয়োজনে খোলা বাজারে মার্কিন ডলার বিক্রি করতে পারে, যা টাকার বিপরীতে ডলারের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
আস্থার প্রতীক: উচ্চ রিজার্ভ আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা (যেমন IMF, World Bank) এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দেয়। এটি ঋণ পাওয়ার এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
বহিঃস্থ ঝুঁকি মোকাবিলা: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি ও ধাক্কা মোকাবিলায় এটি একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী (Safety Net) হিসেবে কাজ করে।