শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৯:০০, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৯:০৫, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
বৃহস্পতিবার পূর্বাচলের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আজ বৃহস্পতিবার পূর্বাচলের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট) স্থাপিত গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে এই নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যে কোনো উসকানির মুখে আমাদেরকে শান্ত থাকতে হবে। প্রিয় ভাই বোনেরা, আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই।’
তিনি বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে ইনশাল্লাহ নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা রয়েছে এই রাষ্ট্রের কাছে। এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- তাহলে আমরা এই লাখ-কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।’
`আমার একটি পরিকল্পনা আছে'
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে রাজধানীর পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান স্মরণ করলেন মার্টিন লুথার কিংয়ের অমর বাণী; সেই অমর বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে বললেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।
দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিং—নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে—‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান; ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’
তিনি বলেন, আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য; যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়—প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি—যত মানুষ উপস্থিত আছেন; প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেই ঢাকার পূর্বাচলে ৩০০ ফিট সড়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে দলের পক্ষ থেকে নির্মিত মঞ্চে তিনি ১৬ মিনিট বক্তৃতা করেন। এসময় মঞ্চে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগম।