শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:৩৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৪২, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে তুমুল উত্তেজনার মধ্যে শুরু হচ্ছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত।
বরফঢাকা সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ প্রধান নির্বাহী (CEO), প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং মানবিক সংস্থার প্রধানরা। ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) এই আয়োজনকে আয়োজকরা এর ইতিহাসের অন্যতম "শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
১৯ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তজনাসহ বিভিন্ন জরুরি ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে গাজা, লেবানন এবং লোহিত সাগরের বর্তমান পরিস্থিতি একটি আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান বিষয়, খবর আরব নিউজের।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য: "সংলাপের চেতনা" (A Spirit of Dialogue)।
বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন বিভাজন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারী: এ বছর রেকর্ড সংখ্যক সরকারি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন:
৪০০ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, ৬৫ জন রাষ্ট্রপ্রধান (যাদের মধ্যে জি-৭ এর ৬ জন নেতা অন্তর্ভুক্ত), ৮৫০ জন শীর্ষ সিইও এবং চেয়ারম্যান এবং ১০০ জন ইউনিকর্ন এবং প্রযুক্তি খাতের পথিকৃৎ।
সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা এবং মরক্কোর সরকার প্রধান আজিজ আখানুচ।
সৌদি আরবের অংশগ্রহণ:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের নেতৃত্বে সৌদি আরবের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। এই দলে বিনিয়োগ, শিল্প, পর্যটন, অর্থনীতি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা রয়েছেন। তারা 'সৌদি ভিশন ২০৩০'-এর অধীনে দেশটির সফল অভিজ্ঞতাগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন। এছাড়া দাভোসে দ্বিতীয়বারের মতো 'সৌদি হাউস' প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে ২০টিরও বেশি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
"অনিশ্চয়তার সময়ে সংলাপ কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি জরুরি প্রয়োজন।" — বর্জ ব্রেন্ডে, প্রেসিডেন্ট ও সিইও, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।
এই বৈশ্বিক ফোরাম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
বর্জ ব্রেন্ডে আরও যোগ করেন, এই সম্মেলনটি "বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা ও উদ্ভাবকদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করবে, যার মাধ্যমে তারা বিভেদ ভুলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় এবং জরুরি চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সমাধান খুঁজে বের করতে পারবেন।"
আয়োজকদের মতে, এবারের সম্মেলন ৫টি প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে: ১. প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে সহযোগিতার পথ তৈরি করা। ২. প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস খুঁজে বের করা। ৩. মানবসম্পদে আরও উন্নত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। ৪. জেনারেটিভ এআই-এর মতো রূপান্তরমূলক প্রযুক্তিগুলোর দায়িত্বশীল ব্যবহার। ৫. পৃথিবীর সীমানা ও পরিবেশ রক্ষা করে সমৃদ্ধি অর্জন এবং নিরাপদ জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ নজর
উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নজিরবিহীন গতি এবারের আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বায়োটেকনোলজি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি (Clean Energy) নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ডব্লিউইএফ (WEF)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরেক ডুসেক বলেন:
"এমন এক যুগে যেখানে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত, সেখানে নীতিনির্ধারক এবং শিল্পখাতের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট।"
বৈশ্বিক ঝুঁকির সতর্কতা
গত বুধবার প্রকাশিত ডব্লিউইএফ-এর একটি প্রতিবেদনে এই বছরের শীর্ষ ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে:
ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত (শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত)।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত।
চরম প্রতিকূল আবহাওয়া।
সামাজিক বিভাজন।
ভুল তথ্য ও অপপ্রচার (Misinformation and Disinformation)।
গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট সতর্ক করেছে যে, বর্তমান "প্রতিযোগিতার নতুন যুগ" ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সুযোগ
ডব্লিউইএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জাহিদি বলেন, মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত "এমন প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা যা প্রতিটি সমাজের উন্নতি নিশ্চিত করবে।" তার মতে, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সুযোগগুলো কি সবার কাছে পৌঁছাবে, নাকি প্রবৃদ্ধি ধীরগতি ও অসম থেকে যাবে?