শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১:২২, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৪, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির ওয়েস্ট পাম বিচের হায়াত হোটেল।
জেফ্রি এপস্টাইনের সাথে যোগসূত্র প্রকাশ হওয়ার জেরে হায়াত হোটেলসের চেয়ারম্যান থমাস প্রিৎজকার পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক নথিতে এপস্টাইনের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর শতকোটিপতি প্রিৎজকার জানান যে তিনি হায়াত হোটেলসের চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নিয়েছেন।
সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী এপস্টাইনের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা ছিল তার "ভয়াবহ বিচারবুদ্ধির পরিচয়," খবর বিবিসির।
সম্প্রতি প্রকাশিত নথিগুলো থেকে জানা গেছে যে, ২০০৮ সালে যৌন অপরাধের মামলায় এপস্টাইনের আপোষের (plea deal) পরবর্তী বছরগুলোতেও প্রিৎজকার তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এপস্টাইনের উচ্চপদস্থ প্রভাবশালীদের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি নিয়ে ফাইলগুলো ফাঁস হওয়ার পর প্রিৎজকার হলেন সর্বশেষ ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব যিনি কঠোর সমালোচনার মুখে পড়লেন।
২০০৪ সাল থেকে এই বৈশ্বিক হোটেল চেইনের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা প্রিৎজকার জানান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সাথে আলোচনার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না।
হায়াত হোটেলের উত্তরাধিকারী এই বিলিয়নেয়ার বলেন, "আমার কাজ এবং দায়িত্ব হলো সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করা। হায়াতে একটি যথাযথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করাও এই দায়িত্বের অংশ।"
তিনি আরও বলেন, "সঠিক পরিচালনা মানে হায়াতকে রক্ষা করাও, বিশেষ করে জেফ্রি এপস্টাইন এবং গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সাথে আমার সম্পর্কের প্রেক্ষিতে—যা নিয়ে আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত।"
২০২১ সালে এপস্টাইনের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রলুব্ধ করার অপরাধে ম্যাক্সওয়েল দোষী সাব্যস্ত হন। অন্যদিকে, এপস্টাইন ২০০৮ সালে শিশু পতিতাবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে জেলহাজতে থাকাকালীন তার মৃত্যু হয়।
প্রিৎজকার ওই জুটির কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, "তাদের থেকে আরও আগে নিজেকে সরিয়ে না নেওয়ার কোনো অজুহাত হতে পারে না।"
বিবৃতিটির পাশাপাশি তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে চলতি বছর তার বয়স ৭৬ বছর হবে এবং বর্তমানে কোম্পানিটি একটি শক্তিশালী ও টেকসই অবস্থানে রয়েছে। তবে পর্ষদের কাছে লেখা ওই চিঠিতে তিনি এপস্টাইন বা ম্যাক্সওয়েলের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেননি।
হায়াতের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী মার্ক হপলামাজিয়ানকে প্রিৎজকারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছে পরিচালনা পর্ষদ।
হপলামাজিয়ান বলেন, প্রিৎজকারের এই সিদ্ধান্ত কয়েক দশক ধরে হায়াতের প্রতি তার দায়বদ্ধতা এবং শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিফলন।
এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের ফলে রাজনীতি, ব্যবসা এবং একাডেমিক জগতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে এই অর্থদাতার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই এখন কঠোর নজরদারির মুখে রয়েছেন।
তবে, নথিতে নাম আসার অর্থ এই নয় যে তারা কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত ছিলেন।
এই মাসের শুরুর দিকে গোল্ডম্যান স্যাকস-এর প্রধান আইনজীবী ক্যাথি রুইমলার কোম্পানি ত্যাগ করার ঘোষণা দেন। এপস্টাইন নথির সর্বশেষ অংশে দেখা গেছে যে তার সাথে এই অর্থদাতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রুইমলার তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছেন।
ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন ল ফার্ম পল ওয়াইস-এর চেয়ারম্যান ব্র্যাড কার্পও পদত্যাগ করেন। প্রকাশিত ইমেইল অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এপস্টাইনের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি তার সাথে আলোচনা করেছিলেন। পল ওয়াইস ইতিপূর্বে জানিয়েছে যে, কার্প কখনও কোনো অপকর্ম দেখেননি বা তাতে অংশ নেননি।