শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:০৪, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৪, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, কোলাজ। সংগৃহীত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল, গ্যাস এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে জাপানের ৩৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাস, ওহাইও এবং জর্জিয়ার এই প্রকল্পগুলোতে জাপানের এই বিনিয়োগ মূলত দুই দেশের মধ্যকার একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম অংশ।
এই চুক্তির আওতায় টোকিও যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে এবং বিনিময়ে ট্রাম্প বেশিরভাগ জাপানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন, খবর সিএনবিসির।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, জাপানের সাথে আমাদের বিশাল বাণিজ্য চুক্তি শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর আকার অনেক বড় এবং 'ট্যারিফ' বা শুল্কের সঠিক ব্যবহার ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলো জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জাপানি কোম্পানিগুলোর ব্যবসার প্রসারে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগগুলো পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশটি যাচ্ছে ওহাইওতে একটি প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রে, যা ৯.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, ৩৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই 'পোর্টসমাউথ পাওয়ারড ল্যান্ড প্রজেক্ট' হবে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি পরিচালনা করবে জাপানি প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসবি এনার্জি।
এছাড়া টেক্সাস উপকূলে একটি গভীর সমুদ্রের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্রে ২.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান। এই 'টেক্সাস গালফলিংক' প্রকল্পটি পূর্ণ ক্ষমতায় চললে বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন তেল রপ্তানি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৃতীয় বড় প্রকল্পটি হলো জর্জিয়ায় একটি সিন্থেটিক ডায়মন্ড গ্রিট বা কৃত্রিম হীরা তৈরির কারখানা, যেখানে জাপান প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি পরিচালনা করবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হীরা কোম্পানি ডি বিয়ার্স গ্রুপের অংশ এলিমেন্ট সিক্স। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের মতে, হীরা থেকে তৈরি এই উপাদানগুলো আমেরিকার শিল্প উৎপাদন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।