শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:৫৫, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার পাঁচটি দেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার প্যারিসে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন ফরাসি কৃষকেরা। ছবি: সংগৃহীত।
ফরাসি কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরেই Mercosur (মেরকোসুর) ভুক্ত দেশগুলোর (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়ে) সাথে এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মূল অভিযোগগুলো হলো:
জীবিকা সংকটের ঝুঁকি: কৃষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে সস্তায় কৃষি পণ্য ফ্রান্সে আসবে, যা স্থানীয় কৃষকদের ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হবে, খবর এনবিসি নিউজের।
সরকারের প্রতি ক্ষোভ: বিক্ষোভকারীদের দাবি, ফরাসি সরকার এই চুক্তি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
অতিরিক্ত সমস্যা: এর পাশাপাশি গবাদি পশুর রোগ প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন স্যানিটারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।
বিক্ষোভের পরিস্থিতি
বিক্ষোভটি আয়োজন করেছিল 'রুরাল কোঅর্ডিনেশন' (Rural Coordination) নামক একটি কৃষক ইউনিয়ন। তারা সরাসরি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সামনে জড়ো হন যাতে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।
"আজকের লক্ষ্য হলো প্যারিসে এসে সরাসরি তাদের কাছে আমাদের দাবি জানানো যাদের হাতে ক্ষমতা আছে। এটি একটি শক্তিশালী প্রতীকী প্রতিবাদ," বলেন, জোসে পেরেজ, যিনি লট-এট-গারন অঞ্চলের রুরাল কোঅর্ডিনেশন সভাপতি।
বিক্ষোভে অংশ নিতে লুদোভিক ডুপেক্স নামে একজন কৃষক কর্সিকা দ্বীপ থেকে নৌকা, ট্রাক্টর এবং ট্রেন ব্যবহার করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্যারিসে পৌঁছান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই চুক্তি বন্ধ করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন না।
কৃষকদের দাবি ও প্যারিসের বর্তমান পরিস্থিতি
বিক্ষোভরত কৃষকরা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। কর্সিকা থেকে আসা কৃষক লুদোভিক ডুপেক্স বলেন, “আমরা চাই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ কৃষকদের পাশে দাঁড়ান। তাকে স্পষ্টভাবে এবং উচ্চকণ্ঠে এটি (চুক্তির বিরোধিতা) বলতে হবে এবং তা কার্যকর করতে হবে।”
চরম ডানপন্থীদের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকা 'রুরাল কোঅর্ডিনেশন' ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কৃষকরা বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের কাছ থেকে “দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত” আশা করছে।
প্যারিসে নিরাপত্তা ও অবরোধের চিত্র
কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা তাদের ট্রাক্টর নিয়ে শহরের মূল কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন:
নিষেধাজ্ঞা অমান্য: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রায় ২০টি ট্রাক্টর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্যারিস শহরের কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে কিছু ট্রাক্টর ঐতিহাসিক আর্ক দ্য ত্রিম্ফ (Arc de Triomphe) এবং কিছু আইফেল টাওয়ারের আশেপাশে অবস্থান নেয়।
বাধা দান: মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাক্টরের বহরগুলো পুলিশের ব্যারিকেড এড়িয়ে জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে। তবে অধিকাংশ ট্রাক্টরকে শহরের মূল কেন্দ্রের বাইরে প্যারিসের সীমানা সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে আটকে দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং ফ্রান্সের অবস্থান
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সপ্তাহে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সাথে আলোচনার নতুন গতি দিয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে যে, আগামী ১২ জানুয়ারি প্যারাগুয়েতে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
জার্মানির ভূমিকা: জার্মানির নেতৃত্বে যারা এই চুক্তির সমর্থক, তারা ফ্রান্স এবং পোল্যান্ডের আপত্তি উপেক্ষা করেই এটি পাস করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
ফ্রান্সের উদ্বেগ: ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী অ্যানি জেনেভার্ড বুধবার পুনরায় এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ফ্রান্সের গরুর মাংস, মুরগি, চিনি, ইথানল এবং মধু উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাত চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।