শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:৩০, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩৮, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর সাধারণ শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার প্রথম দফায় ১০% শুল্ক ঘোষণার ঠিক এক দিন পরেই তিনি এই নতুন ঘোষণা দিলেন। মূলত সুপ্রিম কোর্ট তার জরুরি অবস্থার আওতায় দেওয়া আগের কিছু শুল্ক পরিকল্পনা আটকে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন, খবর ডিডাব্লিউ-এর।
ট্রাম্পের দাবি, ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করার এই নতুন সিদ্ধান্তটি "আইনগতভাবে সঠিক।" শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা আইন ব্যবহার করে ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া "পারস্পরিক" শুল্কের বড় একটি অংশ বাতিল করে দিয়েছিল। তবে অন্যান্য আইনের অধীনে শুল্ক আরোপ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় এই রায়ের কোনো প্রভাব পড়েনি।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মার্কিন ব্যবসায়িক খাত এবং ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিকে, আগামী মার্চের শুরুতে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্টজ ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন এবং সেখানে ট্রাম্পের সাথে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বিবিসি যোগ করেছে:
মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বাণিজ্য ঘাটতি (রপ্তানির চেয়ে আমদানির আধিক্য) কমানোর জন্য এই শুল্ক জরুরি। তবে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এটি ২.১% বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে:
ম্যানুফ্যাকচারিং খাত: বাল্টিমোরের 'মার্লিন স্টিল ওয়্যার প্রোডাক্টস'-এর মালিক ড্রু গ্রিনব্ল্যাট সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে "খুবই হতাশ" হয়েছেন। তার মতে, এটি সেই সব দরিদ্র আমেরিকানদের জন্য একটি বড় ধাক্কা, যারা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের চাকরির মাধ্যমে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে ওঠার স্বপ্ন দেখছিলেন।
কৃষি খাত: ভার্জিনিয়ার সয়াবিন চাষি জন বয়েড এই রায়কে নিজের জন্য "বিশাল জয়" এবং প্রেসিডেন্টের জন্য "বড় পরাজয়" হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের এই নীতি কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।
নতুন শুল্কের আইনি দিক (Section 122)
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসইসি নিউগেটের পরিচালক অ্যালি রেনিসন বলেন, "ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে একটি অগোছালো (patchwork) শুল্ক ব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে।"
নতুন এই ব্যবস্থার মূল পয়েন্টগুলো হলো:
১৫% শুল্ক: ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা (Section 122) অনুযায়ী মার্কিন ব্যবসায়ীদের এখন অধিকাংশ পণ্য আমদানির জন্য ১৫% শুল্ক দিতে হবে।
ছাড় প্রাপ্ত পণ্য: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু এবং ওষুধ শিল্প এই বাড়তি শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
অপরিবর্তিত শুল্ক: ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং অটোমোবাইল খাতের ওপর আগে থেকে কার্যকর থাকা শুল্কগুলো সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রভাবিত হয়নি, সেগুলো বহাল থাকছে।
পূর্ববর্তী চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশের সাথে আগে বাণিজ্য চুক্তি ছিল, তারাও এখন থেকে তাদের পুরোনো রেটের বদলে ১৫% বৈশ্বিক শুল্কের আওতায় পড়বে।