শিরোনাম
মোশতাক আহমদ, বাসস
প্রকাশ: ২০:৫৭, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জর্ডানের একটি পোশাক কারখানায় বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করছেন। ছবি: আরব নিউজের সৌজন্যে।
জর্ডানে গার্মেন্টস খাতে প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি নারী কর্মী কর্মরত রয়েছেন এবং এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আজ তিনি এ তথ্য জানান।
বোয়েসেল-এর মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে, নৈতিক ও নিরাপদ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মীরা বিদেশে গেলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকে না এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষায় সরকার সরাসরি দায়িত্ব নেয়।
মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বোয়েসেল একটি শতভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে প্রতিবছর হাজারো কর্মী বিদেশে যাচ্ছেন। সাধারণত দুইভাবে কর্মীরা বিদেশে যান—কখনো পুরো ব্যয় নিয়োগকর্তা বহন করেন, আবার কখনো আংশিক ব্যয় কর্মীকে বহন করতে হয়। তবে সব ক্ষেত্রেই ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম এবং প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নৈতিক।
তিনি জানান, বর্তমানে বোয়েসেলের মাধ্যমে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানও অব্যাহত রয়েছে।
বোয়েসেল এমডি বলেন, “আমরা চেষ্টা করি যেন দেশত্যাগের আগে কোনো কর্মী হয়রানি বা জটিলতার মুখে না পড়েন। আবার বিদেশে যাওয়ার পরও তাদের খোঁজখবর রাখা হয়।”
এমডি আরও বলেন, বোয়েসেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নিয়োগকর্তারা যে শর্ত ও সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্মী নিয়োগ করেন, তা বাস্তবে পালন করছেন কি না—তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বোয়েসেলের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে যান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মিশনের কর্মকর্তারাও বিষয়টি তদারকি করেন। কোনো ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি নিজে সম্প্রতি জর্ডান ও মালয়েশিয়া সফর করেছি। সেখানে গিয়ে আমাদের কর্মীরা কেমন আছেন, যে শর্তে তাদের নেওয়া হয়েছে সেগুলো মানা হচ্ছে কি না—সবকিছু সরেজমিনে দেখে এসেছি। বোয়েসেলের মাধ্যমে যাওয়া কর্মীরা কখনোই একা পড়ে যান না, আমরা সবসময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি।”
নতুন শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরাকে বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আপাতত প্রায় ৬০ জন কর্মী সেখানে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কুয়েতে স্বাস্থ্য খাতে নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ জন নার্স চলতি মাসেই কুয়েত যাবেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় ৯০ জন নার্স পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব নার্সের বেতন এক লাখ টাকার বেশি হবে এবং দৈনিক কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা। তারা কুয়েতের স্বাস্থ্য খাতের অধীনে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করবেন।
নারী কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে এমডি বলেন, জর্ডানে গার্মেন্টস খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারী কাজ করছেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার নারী কর্মী জর্ডানে কর্মরত আছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। নিয়মিত ইন্টারভিউ ও রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার সব বিজ্ঞপ্তি ও তথ্য প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী প্রার্থীদের নিয়মিত ওয়েবসাইট অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে বোয়েসেলের এমডি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের দক্ষ কর্মীরা যদি বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে যান, তাহলে তারা নিরাপদ অভিবাসনের সুবিধা পাবেন। এতে কোনো দালাল বা মধ্যবর্তী শক্তির সুযোগ থাকবে না। এভাবেই আমরা দেশের স্বাভাবিক ও নিরাপদ শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে চাই।”