ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

৬ শ্রাবণ ১৪৩৩, ০৪ সফর ১৪৪৮

ওয়াশিংটন পোস্টের সিইও উইল লুইস পদত্যাগ করেছেন

যেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭:০৪, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ওয়াশিংটন পোস্টের সিইও উইল লুইস পদত্যাগ করেছেন

ওয়াশিংটন পোস্ট ভবন, ওয়াশিংটন ডিসি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত।

ওয়াশিংটন পোস্টের সিইও উইল লুইস পদত্যাগ করেছেন। গত বুধবার পত্রিকাটির এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ইমেইল বার্তায় লুইস কর্মীদের জানান, দুই বছর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর এখন তার সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়। তার পরিবর্তে বর্তমানে পত্রিকাটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জেফ ডি'অনোফ্রিও সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, খবর ইউরো নিউজের। ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ডি'অনোফ্রিও অবিলম্বে এই দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

গত বুধবারের এই ব্যাপক ছাঁটাইয়ে কয়েকশ সাংবাদিক তাদের চাকরি হারিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানালেও নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পত্রিকাটির ৮০০ জন সাংবাদিকের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বুধবার কর্মীদের সাথে সেই ছাঁটাই সংক্রান্ত সভায় উইল লুইস বা মালিক জেফ বেজোস কেউই উপস্থিত ছিলেন না।

এই কাটছাঁটের ফলে পত্রিকাটির বিখ্যাত স্পোর্টস সেকশন বন্ধ হয়ে গেছে, আলোকচিত্রী দল বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মেট্রোপলিটন ও আন্তর্জাতিক সংবাদের বিভাগগুলোতেও বড় ধরনের জনবল কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সময়ে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন না দেওয়ার ব্যাপারে জেফ বেজোসের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে সম্পাদকীয় নীতির পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন পোস্ট গত কয়েক বছরে বহু গুণী সাংবাদিক ও হাজার হাজার গ্রাহক হারিয়েছে।

বেজোসের অধীনে পোস্টের প্রথম সম্পাদক মার্টিন ব্যারন এই বিলিয়নেয়ারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বেজোস মূলত "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুনজরে আসার" চেষ্টা করছেন। সংবাদপত্রের বর্তমান অবস্থাকে তিনি "খুব অল্প সময়ে নিজের হাতে ব্র্যান্ড ধ্বংস করার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত উইল লুইস ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন পোস্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের শীর্ষ নির্বাহী ছিলেন। শুরু থেকেই তার সময়কাল ছিল অস্থিরতায় ভরা। কর্মী ছাঁটাই এবং একটি ব্যর্থ পুনর্গঠন পরিকল্পনার কারণে শীর্ষ সম্পাদক স্যালি বাজবিও পত্রিকা ছেড়ে চলে যান।

চলতি সপ্তাহের এই গণছাঁটাইয়ের পর অনেকে দাবি তুলেছেন যে, বেজোসকে হয় পোস্টের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, নয়তো এমন কারো কাছে এটি বিক্রি করে দিতে হবে যিনি আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। তবে লুইস তার বিদায়ী বার্তায় বেজোসের প্রশংসা করে বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের এর চেয়ে ভালো মালিক আর হতে পারত না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার সময়ে পোস্টের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যাতে এটি আগামী বহু বছর উচ্চমানের নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করতে পারে।”

অন্যদিকে, কর্মীদের ইউনিয়ন 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গিল্ড' লুইসের এই বিদায়কে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “একটি দুর্দান্ত মার্কিন সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টাই হবে তার মূল পরিচয়। তবে পোস্টকে বাঁচানোর সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। জেফ বেজোসকে অবিলম্বে এই ছাঁটাই বাতিল করতে হবে অথবা এমন কারোর কাছে পত্রিকাটি বিক্রি করতে হবে যিনি এর ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।”

ইউনিয়ন আরও জানায়, “জেফ বেজোস যদি এই পত্রিকার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা লক্ষ্য এবং এর ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষের স্বার্থে বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক হন, তবে পোস্ট এমন একজন অভিভাবক পাওয়ার যোগ্য যিনি তা করবেন।”

জেফ বেজোস তার বিবৃতিতে লুইসের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি কেবল বলেছেন যে, ডি'অনোফ্রিও এবং তার দল পোস্টকে একটি “উত্তেজনাপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ আগামী অধ্যায়ের” দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
বেজোস এক বিবৃতিতে বলেন, “ওয়াশিংটন পোস্টের একটি অপরিহার্য সাংবাদিকতামূলক লক্ষ্য এবং অসাধারণ সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন আমাদের পাঠকরাই আমাদের সাফল্যের পথ দেখিয়ে দেন। ডেটা বা তথ্যই আমাদের বলে দেয় কোনটি মূল্যবান এবং কোথায় আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

ডি'অনোফ্রিও, যিনি এর আগে ডিজিটাল অ্যাড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি র‍্যাপটিভ, গুগল, জাগাত এবং মেজর লিগ বেসবলে কাজ করার পর গত জুনে এই পত্রিকায় যোগ দিয়েছিলেন, কর্মীদের উদ্দেশে একটি বার্তায় বলেন, “পরিবর্তনের একটি কঠিন সপ্তাহ আমরা আরও একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ করছি।”

তিনি আরও লেখেন, “এটি সকল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জিং সময় এবং দুর্ভাগ্যবশত ওয়াশিংটন পোস্টও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি বড় ধরনের পরিবর্তনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান—উভয়কেই পথ দেখাতে সাহায্য করার সুযোগ পেয়েছি। শিল্পের পটভূমি পরিবর্তনের সময় সবাইকেই অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে এবং আমরা সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা সবাই মিলে এবারও ঠিক তাই করব।”

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন