শিরোনাম
বিবিসি নিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১২:১০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অন্তত ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি; গণভোটের ফল সংশোধন করলো ইসি, এ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন-ও; আগের মতোই নতুন সরকারেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রথা রয়েই গেলো এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষকের ঋণ মওকুফের খবর গুরুত্ব পেয়েছে শুক্রবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে।
কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম— ৬৫ প্রকল্পে ব্যয় ৮০ হাজার কোটি বাড়িয়ে গেছে ইউনূস সরকার।
খবরটিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে অন্তত ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যেখানে অতিরিক্ত যোগ হয়েছে প্রায় ৭৯ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও একনেকের বৈঠকের কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সময়ে একনেকের ১৯টি বৈঠকে মোট ৮৭টি চলমান প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে।
এর মধ্যে সাতটি প্রকল্পের ব্যয় কমানো হয়েছে, তাতে মোট সাশ্রয় হয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা, যা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আগের ব্যয়ের মাত্র দুই দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।
আরো ১৫টি প্রকল্পের ব্যয় অপরিবর্তিত রাখা হলেও কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এই ৬৫টি প্রকল্পের প্রাথমিক মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ চার হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ গড়ে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৫.৬৭ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল তারা উন্নয়ন প্রকল্পে কঠোর নজরদারি করবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাবে। কিন্তু বারবার প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইত্তেফাকের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— 'হ্যাঁ' ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি, 'না' কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি।
খবরটিতে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পূর্বে ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় প্রায় ১১ লাখ ভোট কমিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, 'হ্যাঁ' ভোটের সংখ্যা কমে হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০। 'না' ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। বাতিল ভোটের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬।
বাতিল ভোট বাদ দিলে বৈধ ভোট দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের তুলনায় 'হ্যাঁ' ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ এবং 'না' ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫।
বৈধ ভোট কমলেও বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি, যা সংশোধনীকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে সংশোধনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি নির্বাচন কমিশন।
এই খবরে বলা হয়েছে, চব্বিশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শেষ তিন মেয়াদের পুরো সময় শত শত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকারেরও প্রশাসন চালাতে প্রধান হাতিয়ার হয় এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারও একই পথে হাঁটছে।
মূলত, জনপ্রশাসনের বিশেষায়িত কোনো পদে ভালো বিকল্প না পাওয়ায় গত শতকের আশির দশকে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রচলন হয়।
১৯৯০ সালের শেষে এরশাদ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও এভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সব সরকারই সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিতে নিয়োগের কোনো নীতিমালা না থাকায় এর ন্যায্য ব্যবহার নিয়ে সংশয়ের অবকাশ থেকে যায়। এর ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব উপেক্ষা করে সরকারের আনুগত্য লাভের চেষ্টা করার প্রবণতাও বাড়ে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— More families turn to TCB as poverty deepens; অর্থাৎ দারিদ্রতা বাড়ায় টিসিবির দিকে ঝুঁকছে আরও বেশি পরিবার।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গেলো জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে আট দশমিক ২৯ শতাংশে, যা ডিসেম্বরের তুলনায় দশমিক ছয় শতাংশ বেশি।
ক্রমবর্ধমান এই অর্থনৈতিক চাপ দেশের আরও বেশি পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
২০২৫ সালের বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ানোর। যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক সাত শতাংশ।
গত বছরের অগাস্টে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, দারিদ্যের এই হারের ব্যপ্তি আরও বেশি। তারা বলছে, জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ এখন গরীব।
এর মধ্যে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এ বছর বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে, তিন বছর আগে যা ছিল পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ।
এর অর্থ হচ্ছে, প্রতি দশজনে এখন একজন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে আছে। আর প্রতি চারজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।
এছাড়া, আরও ১৮ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকিপূর্ণ অ-দরিদ্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যাদের দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দারিদ্রতা বৃদ্ধির এই চিত্র দৃশ্যমান হচ্ছে টিবিসির পণ্য বিক্রির ট্রাক ও নির্ধারিত স্থানে। কম দামে পণ্য কিনতে অনেকে দূর থেকে আসছেন যেমন, তেমনি কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন দীর্ঘ সময় ধরে।
টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর কিনতে পারেন।
সব মিলিয়ে এসব পণ্য কিনতে একজনের লাগে ৫৫০ টাকা। বাজার থেকে সমপরিমাণ পণ্য কিনতে প্রায় ৯৫০ টাকা লাগে। তাতে ৪০০ টাকা সাশ্রয় হয়।
অনেকের কাছে এই সাশ্রয়ের মানে হলো, না খেয়ে থাকার চেয়ে একটু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।
বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর— শিক্ষকদের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে বাড়ছে হাতাহাতি-দ্বন্দ্ব।
এই খবরে বলা হয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমাজে পদ-পদবি, নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্বন্দ্ব বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর শিক্ষকদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার ও দাবি-দাওয়া আদায়ে, অপরপক্ষ নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
তাদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এ ধরনের দ্বন্দ্ব আরো বাড়তে পারে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে এবং কেউ যাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সুযোগ না পায় সেজন্য সরকার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করবে।
দেশ রূপান্তরের প্রধান সংবাদ— ৯৫ ভাগ মামলাই তদন্তাধীন।
এই খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগসহ তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বেশিরভাগেরই তদন্ত শেষ হয়নি।
সারাদেশে এক হাজার ৮৪১টি মামলার মধ্যে এক হাজার ৭০১টি এখনো তদন্তাধীন। মাত্র ১৪০টি মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। আর রায় হয়েছে তিনটির। অর্থাৎ, মোট মামলার প্রায় ৯৫ শতাংশই এখনো তদন্তাধীন।
জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে সংঘটিত ঘটনায় ফৌজদারি আদালতে হওয়া কোনো মামলারই বিচার শেষ হয়নি। কিংবা বিচারের শেষ পর্যায়েও আসেনি। যে তিনটি মামলার রায় হয়েছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের।
এদিকে, গণহারে হওয়া এসব মামলা নতুন করে যাচাইবাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
নয়া দিগন্তের প্রধান সংবাদ— চাঁদাবাজির অদৃশ্য সাম্রাজ্য ঢাকা।
এই খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ফুটপাথ দখল করে বছরে প্রায় এক হাজার ৮২৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়।
অর্থাৎ প্রতি দিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়।
এই বিপুল অঙ্কের একটি টাকাও যায় না সরকারের কোষাগারে। সবটাই ভাগ হয় সিন্ডিকেট, গডফাদার, রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং অসাধু পুলিশ সদস্যদের মধ্যে।
ফুটপাথ দখল ও বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একসময় উচ্চ আদালত কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সময় পেরোলেও দৃশ্যপট খুব একটা বদলায়নি।
উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে, কাগজে-কলমে নির্দেশ জারি হয়েছে, তবু দখলদারিত্ব থেকে যায় আগের মতোই।
চাঁদা নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে পরিণতি হয় ভয়াবহ; কখনো দোকান ভাঙচুর, মারধর, উচ্ছেদ কিংবা মামলা।
নিউ এইজের প্রথম পাতার একটি খবর— Girl abducted from father, killed in Narsingdi; অর্থাৎ নরসিংদীতে বাবার কাছ থেকে মেয়েকে অপহরণের পর হত্যা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় এক কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে একদল যুবক কর্তৃক অপহরণের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলার সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দির মধ্যবর্তী একটি সরিষা ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওই কিশোরী পরিবারের সাথে ইউনিয়নটিতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবা টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, ১৫ দিন আগে বাড়ি ফেরার পথে ওই কিশোরীকে নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা নামের স্থানীয় যুবকের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল অপহরণ করে ধর্ষণ করে।
পরে ভুক্তভোগীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের এক সাবেক মেম্বারের কাছে এ নিয়ে বিচার দেয়। তাতে নুরা ও তার সহযোগীরা আরও ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
প্রথম আলোর প্রধান সংবাদ— ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মাফ।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছে সরকার। শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন।
এ সিদ্ধান্তের ফলে মওকুফ হবে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সুফল পাবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই হারে কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ গ্রহীতা সবচেয়ে বেশি ছিল কৃষি বাংকে। তাদের এমন ছয় লাখ ৬১ হাজার ৭৬৩ ঋণ গ্রহণকারীর মোট কৃষিঋণ ৬২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। তাদের মওকুফ সুবিধা পেতে যাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা দুই লাখ ১৫ হাজার ৯৩২ এবং ঋণের পরিমাণ ৪১৩ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিশেষায়িত ব্যাংক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এক লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৪ গ্রাহকের মওকুফ হতে যাওয়া ঋণের পরিমাণ ১৪৮ কোটি ৭৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
সমকালের প্রধান সংবাদ— গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ বাড়ছে।
এই খবরে বলা হয়েছে, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত উপকরণের ছিদ্র বা লিকেজ থেকে সারাদেশে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে মৃত্যু, দগ্ধ এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
এছাড়া, পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটছে।
২০২৫ সালে সিলিন্ডার ও সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত উপকরণের লিকেজ থেকে এক হাজার ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগের বছর ঘটেছে ৭৪৮টি। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় পঁচিশে ২৯৩টি দুর্ঘটনা বেশি হয়েছে।
দগ্ধদের বেশিরভাগের ভাষ্য, তারা ঘরে গ্যাস লিকেজ টের পাননি। চুলা জ্বালানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে শরীরে আগুন ধরে গেছে।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়লেও সিলিন্ডার আমদানি, বাজারজাত ও নিরাপত্তা-মান পরীক্ষার বিষয়ে সরকারের তিন তদারক সংস্থা নির্বিকার।
গ্রাহকদের সচেতনতার ঘাটতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নির্বিকার ভূমিকার কারণে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।