শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:৩৫, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৩৭, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
জাতিসংঘ স্থানীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে একটি দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানির দক্ষ জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা বিতরণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম কার্বন ক্রেডিট অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছে।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই জাতিসংঘ-পরিচালিত বাজার ব্যবস্থা দেশ এবং কোম্পানিগুলোকে অন্য দেশে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে তাদের অতিরিক্ত নির্গমন পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
বিশ্বব্যাপী নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে তৈরি এই বাজার ব্যবস্থার অধীনে প্রথম কার্বন ক্রেডিট অনুমোদিত হলো, যদিও গ্রিনওয়াশিং বা পরিবেশগত তথ্যের অতিরঞ্জিত প্রচারণার আশঙ্কায় এই প্রক্রিয়াটি আগে থেকেই সমালোচনার মুখে ছিল, জাতিসংঘ স্থানীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে একটি দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানির দক্ষ জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা বিতরণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম কার্বন ক্রেডিট অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছে, খবর ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর-এর।
সমালোচকদের ভয় হলো, এই পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হলে দেশ বা কোম্পানিগুলো তাদের নির্গমন হ্রাসের প্রকৃত তথ্যের চেয়ে বেশি প্রচার করার সুযোগ পাবে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে বিশ্বের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা জানিয়েছে, এই নতুন কার্বন বাজারের অধীনে ইস্যু করা প্রথম ক্রেডিটগুলো মিয়ানমারের একটি প্রকল্পের সাথে যুক্ত। এই প্রকল্পে দক্ষ জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা বিতরণ করা হয়, যা ঘরের ভেতরের ক্ষতিকারক বায়ু দূষণ কমায় এবং স্থানীয় বনের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। দক্ষিণ কোরীয় একটি কোম্পানির অংশীদারিত্বে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি যে ক্রেডিট তৈরি করবে, তা দক্ষিণ কোরিয়া এবং মিয়ানমার—উভয় দেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্যারিস এগ্রিমেন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজম (PACM)-এর অধীনে আরও রক্ষণশীল বা সতর্ক হিসাব প্রয়োগ করার ফলে আগের তুলনায় এবারের নির্গমন হ্রাসের পরিমাণ ৪০ শতাংশ কম দেখানো হয়েছে।
এই মেকানিজম তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘ বডির ভাইস চেয়ার জ্যাকুই রুয়েসগা এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শুরু থেকেই এই বাজারের প্রতি আস্থা তৈরি করা, আর এই প্রথম কার্বন ক্রেডিট ইস্যু করার ঘটনা প্রমাণ করে যে পদ্ধতিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে দুই শত কোটিরও বেশি মানুষ রান্নার কাজে কেরোসিন, কয়লা অথবা কাঠ, ফসলের বর্জ্য ও শুকনা গোবরের মতো জৈব জ্বালানি ব্যবহার করে খোলা চুলায় রান্না করেন। এর ফলে সৃষ্ট বায়ু দূষণ প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মিয়ানমারের এই প্রকল্পের চুলাগুলো কাঠের জ্বালানিকে আরও কার্যকরভাবে পোড়াতে সক্ষম, যার ফলে এতে জ্বালানি কম লাগে এবং ঘরের ভেতরে ধোঁয়াও অনেক কম নির্গত হয়।
তবে ডব্লিউএইচও (WHO) জানিয়েছে, বর্তমান গতিতে চললে ২০৩০ সালের মধ্যে জনসংখ্যার মাত্র ৭৮ শতাংশ মানুষ পরিচ্ছন্ন রান্নার (clean cooking) সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, পরিচ্ছন্ন রান্না স্বাস্থ্য রক্ষা করে, বন বাঁচায়, নির্গমন কমায় এবং নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়নে সাহায্য করে, কারণ সাধারণত তারাই ঘরের বায়ু দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, এই জাতিসংঘ কার্বন বাজারের সুযোগ সব অঞ্চলেই ব্যাপক। বিশেষ করে এখন শক্তিশালী পরিবেশগত সুরক্ষা, সুদৃঢ় মানদণ্ড এবং প্রতিকারের একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু থাকায় এর সততা, অন্তর্ভুক্তি এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বিশ্ব উষ্ণায়নকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এবং আদর্শগতভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই চুক্তিতে দেশগুলোর মধ্যে কার্বন নির্গমন হ্রাসের আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৪ সালে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ২৯ (COP29) জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন বাজার ব্যবস্থার জন্য নতুন কিছু নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়।
সে সময় গ্রিনপিস জানিয়েছিল যে, এই চুক্তিতে এমন কিছু ফাঁকফোকর রয়ে গেছে যা জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দূষণ অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দেবে। তবে অন্য পরিবেশবাদীরা বলছেন যে, ব্যবস্থাটি নিখুঁত না হলেও এটি কার্বন ক্রেডিট নিয়ন্ত্রণের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় এমন কিছু স্বচ্ছতা এনেছে যা আগে ছিল না।