শিরোনাম
প্রকাশ: ১১:২০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি: সংগৃহীত।
তীব্র তুষারঝড়ের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমান চলাচল বাতিল এবং বিলম্বিত হয়েছে। বর্তমানে ৪ কোটিও বেশি মানুষ শীতকালীন সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছেন এবং পূর্ব উপকূল বরাবর ৬০০ মাইলেরও বেশি এলাকা জুড়ে ব্লিজার্ড বা তুষারঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ৬ লাখেরও বেশি গ্রাহক বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, শহরের কিছু অংশে ১৯ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে, খবর এনবিসি নিউজের। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এই ঝড়টি গত ১৫০ বছরের মধ্যে শহরের ১০টি ভয়াবহতম ঝড়ের একটি হিসেবে গণ্য হতে পারে। নিউ জার্সি এবং লং আইল্যান্ডের কিছু অংশে প্রায় ২ ফুট তুষারপাত হয়েছে। নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া এবং কানেটিকাট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল ও ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটি এবং বোস্টনসহ বেশ কয়েকটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট আজ স্কুল বন্ধ রেখেছে। মামদানি জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে সরাসরি উপস্থিতিতে ক্লাস আবার শুরু হবে। সারা দেশে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে নিউ ইয়র্ক সংলগ্ন বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে।
একটি নজিরবিহীন ঘটনায় বোস্টন গ্লোব জানিয়েছে যে, ভারী তুষারপাতের কারণে তারা আগামীকালকের কাগুজে সংস্করণ ছাপাতে এবং সরবরাহ করতে পারবে না। সংবাদপত্রটি তাদের ১৫৩ বছরের ইতিহাসে এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছে। তারা লিখেছে যে, নর’ইস্টার ঝড় এবং ভারী তুষারপাতের কারণে মুদ্রণ কর্মীরা টনটনে অবস্থিত ছাপাখানায় নিরাপদে পৌঁছাতে পারছেন না। টনটন এবং রোড আইল্যান্ডের বেশিরভাগ এলাকা এই ঝড়ের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি ছিল, যেখানে কিছু জায়গায় প্রায় ৩ ফুট তুষারপাত হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস তাদের হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, নিউ জার্সির নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ২৭ ইঞ্চির বেশি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুর ২টায় এই দাপ্তরিক পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। ট্রাই-স্টেট এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি তুষারপাতের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কানেটিকাটের নর্থ স্টোনিংটনে ৩০.৮ ইঞ্চি এবং নিউ ইয়র্ক সিটির স্টেটেন আইল্যান্ডের গ্রাসমেয়ার অংশে ২৯ ইঞ্চি তুষারপাত অন্তর্ভুক্ত। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, নেওয়ার্কসহ নিউ ইয়র্ক সিটি এলাকার সবকটি বিমানবন্দর আজ ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় শীর্ষে ছিল।