ঢাকা, রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৯ ফাল্গুন ১৪৩২, ০৩ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি
Scroll
মার্চে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
Scroll
জাপানে এপ্রিল থেকে বিমানে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার নিষেধ
Scroll
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘আন্তরিক ও অকৃত্রিম’, বললেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
Scroll
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করাই তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ
Scroll
ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার : মাহদী আমিন
Scroll
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুরোনো কর্মচারীদের দেখে কথা বললেন তারেক রহমান
Scroll
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক সভা
Scroll
শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক
Scroll
মধ্য এশিয়ার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে রুশ ভাষার অস্বস্তিকর অবস্থান
Scroll
নেপাল: এভারেস্টের জন্য কঠোর নিয়ম রেখে উচ্চকক্ষে পর্যটন বিল পাস
Scroll
চীন-ইউরোপ বাণিজ্য ভারসাম্য: চীনের বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মূল নীতি পরিবর্তন চায় ইউরোপ
Scroll
ডাকটিকিট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবার অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Scroll
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ
Scroll
ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
Scroll
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের সব দেশের উপর ১০% শুল্ক আরোপ
Scroll
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনায় ’সমর্পণের’ বদলে কেন সংঘাতের পথ বেছে নিতে পারে ইরান
Scroll
পত্রিকা: ’বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেই ভিসা সেবা বাড়ছে’
Scroll
ভাষা শহীদদের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন

নেপাল

এভারেস্টের জন্য কঠোর নিয়ম রেখে উচ্চকক্ষে পর্যটন বিল পাস

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫:২৪, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এভারেস্টের জন্য কঠোর নিয়ম রেখে উচ্চকক্ষে পর্যটন বিল পাস

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।

পর্বতারোহীদের স্বাস্থ্য ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ড পূরণ, বাধ্যতামূলক বিমা এবং পরিবেশ তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে।

নেপালের জাতীয় সভা ‘integrated tourism bill’ বা সমন্বিত পর্যটন বিল পাস করেছে। এটি একটি বিস্তৃত আইন যা মাউন্ট এভারেস্টসহ দেশের উচ্চ পর্বতগুলো পরিষ্কার রাখার লক্ষ্যে কঠোর পর্বতারোহণ নিয়ম, কঠোর নিরাপত্তা ও বিমা ব্যবস্থা এবং একটি স্থায়ী পরিবেশ তহবিল চালু করবে, খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যটন মন্ত্রী অনিল কুমার সিনহার উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি উচ্চকক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে সিনহা বলেন, এই বিলের লক্ষ্য নেপালের পর্যটন খাতকে বহুমুখীকরণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেই সঙ্গে পর্বতারোহণের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান শক্তিশালী করা।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো পর্যটন বিলে পর্বতারোহণের নিয়মগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগের নিয়মগুলো ছিল সাময়িক, যার ফলে সেগুলোর বাস্তবায়ন ছিল দুর্বল। নেপালের সর্বোচ্চ আদালতও নেপালের পাহাড়গুলো পরিষ্কার রাখতে এবং মৃত্যু রোধে সরকারকে টেকসই সমাধান খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিলটি এখন প্রতিনিধি সভায় (নিম্নকক্ষ) পাঠানো হবে, যা আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।

নিম্নকক্ষের অনুমোদনের পর আইনটি পুনরায় জাতীয় সভায় আসবে এবং এরপর অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রক্রিয়াটি মসৃণভাবে চললে বিলটি আইনে পরিণত হতে অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে।

এই বিলের একটি অন্যতম প্রধান বিধান হলো পর্বতারোহী দলের সকল সদস্যের জন্য সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক করা।

পর্বতারোহণের অনুমতির জন্য আবেদন করার সময় লিয়াজোঁ অফিসার, সরদার (দলের নেতা), মাউন্টেন গাইড এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীসহ প্রতিটি সদস্যকে গত এক মাসের মধ্যে ইস্যু করা স্বাস্থ্য সনদ জমা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, উচ্চ উচ্চতায় প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা কমানোই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

যেসব পাহাড়ে আরোহণের জন্য পূর্বানুমতি প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে পর্বতারোহীদের বিস্তারিত পরিকল্পনা, নির্ধারিত ফি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ পর্যটন বিভাগে আবেদন করতে হবে।

আবেদন এবং এর সাথে যুক্ত নথির ভিত্তিতে বিভাগ অনুমোদিত রুট এবং শর্তাবলী উল্লেখ করে পর্বতারোহণের অনুমতি দিতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরোহণের জন্য বা দলের সাথে যাওয়ার জন্য সন্তোষজনক মনে না হয়, তবে তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিলে এভারেস্ট আরোহীদের জন্য অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের অনুমতি কেবল তখনই দেওয়া হবে, যখন আবেদনকারী নেপালে ৭,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার অন্তত একটি পর্বত শৃঙ্গ জয়ের প্রমাণ দাখিল করতে পারবেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিজ্ঞতাহীন পর্বতারোহীদের এভারেস্ট জয়ের প্রবণতা কমানোর জন্যই এই নিয়ম। এই অভিজ্ঞতাহীনতার কারণেই মূলত পাহাড়ে ভিড়, দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারকাজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এছাড়া বিলে আরোহণের মৌসুম, আবেদন ফি, অনুমতির শর্তাবলী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সেবা এবং বয়স ও অভিজ্ঞতার সীমা নিয়েও অতিরিক্ত বিধান রাখা হয়েছে।

আইনটির একটি বড় দিক হলো 'পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্বতারোহী কল্যাণ তহবিল' গঠন। পর্বতারোহী এবং সহায়ক কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে পরিবেশগত সুরক্ষা কাজে অর্থায়নের জন্য সরকার এই তহবিল গঠন করবে। পর্বতারোহী, দল বা যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অনুদান দিতে পারবে। বিশেষ বিষয় হলো, আরোহণের অনুমতি দেওয়ার সময় সংগৃহীত আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ফি সরাসরি এই তহবিলে জমা হবে।

২০১৪ সাল থেকে নেপাল নিয়ম করেছিল যে, বেস ক্যাম্পের ওপরে যাওয়া প্রত্যেক পর্বতারোহীকে অন্তত ৮ কেজি কঠিন বর্জ্য ফেরত আনতে হবে, অন্যথায় ৪,০০০ ডলারের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। প্রস্তাবিত আইনে এই ফেরতযোগ্য জামানতকে একটি অফেরতযোগ্য ফি-তে রূপান্তর করার কথা বলা হয়েছে, যাতে পর্বত পরিষ্কার ও সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী অর্থভাণ্ডার তৈরি হয়।

কয়েক দশক ধরে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে মাউন্ট এভারেস্ট ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে বলে দেশি-বিদেশি সমালোচনার মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদী (২০২৫-২০২৯) একটি ব্যাপক 'এভারেস্ট ক্লিনআপ অ্যাকশন প্ল্যান' ঘোষণা করেছে।

বিলে পর্বতারোহণের সনদ প্রদান প্রক্রিয়াকেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। কোনো দল সফলভাবে আরোহণ শেষ করে আবেদন করলে পর্যটন বিভাগ প্রমাণাদি যাচাই সাপেক্ষে সনদ প্রদান করবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে পরবর্তীতে আর সনদ পাওয়া যাবে না। যদি কোনো আরোহী বিশেষ কোনো রেকর্ড গড়েন, তবে সেটিও সনদে উল্লেখ করা হতে পারে। এছাড়া সরদার, গাইড এবং সহায়ক কর্মীরাও তাদের ভূমিকার উল্লেখসহ সনদ পাবেন।

বিলে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো আরোহীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তবে তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সনদ দেওয়া হবে না। কোনো অভিযান পরিত্যক্ত হলে বা অনুমতি বাতিল হলে জমাকৃত রয়্যালটি ফেরত দেওয়া হবে না। তবে সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারীর মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে রয়্যালটি সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উদ্ধার ও চিকিৎসার দায়িত্বও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পর্যটকের দুর্ঘটনা বা নিখোঁজ হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল বা ট্রেকিং এজেন্সি অনুসন্ধান ও চিকিৎসার দায়িত্ব বহন করবে। প্রয়োজনে পর্যটন বিভাগ সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করবে। এছাড়া কোনো ব্যক্তি যদি কোনো এজেন্সির অধীনে না থেকে বিপদে পড়েন, তবে বিভাগ প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। নতুন আইনে কোনো আরোহী নিখোঁজ হওয়ার এক বছর পর পর্যন্ত সন্ধান না পাওয়া গেলে তাকে আইনত মৃত ঘোষণার বিধানও রাখা হয়েছে।

বিমার নিয়মও আরও কঠোর করা হয়েছে। অভিযানে যাওয়ার আগে এজেন্সিকে অবশ্যই লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানি থেকে ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা, চিকিৎসা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মরদেহ ব্যবস্থাপনার বিমা করতে হবে। এই বিমা দলের সদস্য থেকে শুরু করে লিয়াজোঁ অফিসার ও সহায়ক কর্মীদের জন্যও বাধ্যতামূলক।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই সমন্বিত পর্যটন বিল নেপালের পর্বতারোহণ শাসন ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমূল পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন