শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৯:০৬, ২২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৯:১২, ২২ মার্চ ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে তিনি দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। আহতদের সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ট্রেন-বাস সংঘর্ষে তদন্ত করে প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বাসসকে এ কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লায় রেল দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, অপর কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি তদন্ত কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী, হবিগঞ্জ এবং জামালপুর সেতু দুর্ঘটনাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায়
রোববার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পবিত্র ঈদ উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগজনক। প্রতিটি জীবন মূল্যবান। প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি। প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করতে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছে।
কুমিল্লায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের স্বজন ও আহতদের দেখতে যান।
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রেলওয়ের কোনো ধরণের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথমত, দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান লেভেল ক্রসিংগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, যাতে ট্রেন আসার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এসব ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গার্ডও নিয়োজিত থাকবে।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করবে।
দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুই গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশন মাস্টারকেও জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি বিভাগীয়, একটি জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শন শেষে রেল প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের স্বজন ও আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।