শিরোনাম
বিবিসি
প্রকাশ: ১৯:৪৭, ২২ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের সময় সুদানের একটি প্রধান হাসপাতালে ড্রোন হামলায় ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। সুদানের সেনাবাহিনী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রিত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি শহরে এই ভয়াবহ হামলার কথা অস্বীকার করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, পূর্ব দারফুর রাজ্যের রাজধানী আল-দাইন টিচিং হাসপাতালে এই হামলায় ১৩ জন শিশু, দুইজন নার্স এবং একজন চিকিৎসকসহ মোট ৬৪ জন মারা গেছেন। এছাড়া আরও ৮৯ জন আহত হয়েছেন।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তেদরোস আধানোম বলেন, "প্রচুর রক্তপাত হয়েছে।" তিনি প্রায় তিন বছর আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
আরএসএফ জানিয়েছে, ঈদের দিন আল-দাইনের ওই হাসপাতালে সেনাবাহিনীর ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। ২০২১ সালে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হলে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদান গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন—যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। জাতিসংঘ এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর আল-দাইন টিচিং হাসপাতালটি আর সেবা দেওয়ার অবস্থায় নেই উল্লেখ করে ড. তেদরোস চিকিৎসা কেন্দ্রে বারবার হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, "প্রায় তিন বছরের এই সংঘাতের মধ্যে ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে যে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর ২১৩টি হামলায় ২,০৩৬ জন নিহত হয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "এখন সময় এসেছে সুদানে সংঘাত কমিয়ে বেসামরিক নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মানবিক সহায়তাকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার। স্বাস্থ্যসেবা কখনোই লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। শান্তিই হলো সেরা ওষুধ।"
আরএসএফ-এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই হামলায় হাসপাতালের উপরের তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জরুরি বিভাগের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে গেছে।
এর জবাবে সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, এই হামলার পেছনে তাদের হাত থাকার অভিযোগে তারা বিস্মিত। তারা আরও যোগ করেছে যে, তারা "আন্তর্জাতিক রীতি ও আইন" মেনেই কাজ করে।
এদিকে ইমার্জেন্সি লয়ার্স গ্রুপ এই ঘটনার একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় এই মানবাধিকার সংস্থাটি, যারা যুদ্ধজুড়ে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ উভয়ের মাধ্যমেই সংঘটিত নৃশংসতার তথ্য নথিভুক্ত করেছে, তারা জানিয়েছে যে আল-দাইনের এই হাসপাতালটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ছিল। শহর এবং আশেপাশের গ্রামগুলোর হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
পূর্ব দারফুর কর্ডোফান অঞ্চলের সাথে সীমান্তবর্তী, যা বর্তমানে যুদ্ধের একটি নতুন সম্মুখ সমরে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন হামলা চলছে। এই এলাকাটি আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের সাথে রাজধানী খার্তুমকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান করিডোর। উল্লেখ্য যে, গত বছর সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, এই যুদ্ধ থামানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে এটি আফ্রিকার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অন্যতম প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারা বিশ্বের মুসলমানরা যখন পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন, তখন এ বছর সুদানজুড়ে এই উৎসবের আমেজ ছিল অত্যন্ত ম্লান ও বিষাদগ্রস্ত।