শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:০০, ২০ মার্চ ২০২৬
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সম্মেলন শেষে ছবি তোলেন নেতাগণ।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণে হাঙ্গেরির ভেটো, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্যের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
সম্মেলনের মূল আলোচনা মূলত হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ঢাকা পড়ে যায়। ইউক্রেনের জন্য প্রস্তাবিত এই বিশাল ঋণ আটকে দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দ্রুজবা তেল পাইপলাইনে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন, খবর ইউরো নিউজের।
অরবান বৃহস্পতিবার বলেন, "ইউক্রেন যখন আমাদের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করবে, যা বর্তমানে তারা আটকে রেখেছে, তখনই আমরা তাদের সমর্থনে প্রস্তুত হবো। ততক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।"
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা অরবানের এই ভেটোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "কেউ ইইউর প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে জিম্মি বা ব্ল্যাকমেইল করতে পারে না।"
সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ভয়াবহ প্রভাব।
সম্মেলন শেষে যৌথ বিবৃতিতে নেতারা "উত্তেজনা প্রশমন ও সর্বোচ্চ সংযম" প্রদর্শনের আহ্বান জানান। একই সাথে তারা "জ্বালানি ও পানি সরবরাহ স্থাপনায় হামলার ওপর স্থগিতাদেশ বা নিষেধাজ্ঞা" জারির দাবি তোলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল জরুরি ভিত্তিতে স্বাভাবিক করার বিষয়ে একমত হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ করা নৌ-মিশন মোতায়েনের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, "শর্ত পূরণ হলেই" কেবল এই মিশন মোতায়েন করা সম্ভব।
শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে অর্থনীতি বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে, যেখানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা মুদ্রাস্ফীতির সাথে অর্থনৈতিক স্থবিরতার আশঙ্কা প্রবলভাবে ফুটে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যে ‘যুদ্ধবাজ’ মানসিকতা বর্জনের আহ্বান পেদ্রো সানচেজের
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সম্মেলনের শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা না বললেও তার দপ্তর থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সম্মেলনে আলোচিত মূল বিষয়গুলো নিয়ে স্পেনের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকে সানচেজ বহুপাক্ষিক নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থা রক্ষার আহ্বান জানান এবং ইরান ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণকে ‘অবৈধ’ অভিহিত করে স্পেনের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইউরোপীয় কাউন্সিলের পক্ষ থেকে একটি দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করেন, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অগ্রাধিকারগুলো রক্ষা করবে এবং যেকোনো ধরণের "যুদ্ধবাজ মানসিকতা" থেকে দূরে থাকবে।
এ ছাড়া, সানচেজ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সাময়িক সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় এমিশন ট্রেডিং সিস্টেমকে (ETS) ইউরোপীয় জলবায়ু নীতির একটি "প্রধান হাতিয়ার" হিসেবে সমর্থন করেন।
উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে এমিশন ট্রেডিং সিস্টেমকে ছিল অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এই ব্যবস্থা সংশোধন বা সরাসরি স্থগিত করার দাবি জানিয়েছিল।