শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:২৫, ১৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৯:২৮, ১৭ মার্চ ২০২৬
ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস । ছবি: সংগৃহীত।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী রক্ষায় সহায়তা করার জন্য ব্লকের ওপর চাপ বৃদ্ধি করার একদিন পরই এই বৈঠকটি হলো। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ন্যাটো সদস্যরা যদি ওয়াশিংটনকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই জোটের ভবিষ্যৎ "খুবই খারাপ" হতে পারে।
ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস সোমবার বলেন যে, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন রোধ করতে এবং জলপথটি সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপের প্রতি ক্রমবর্ধমান আহ্বান সত্ত্বেও ইইউ-এর নৌ অভিযান 'অ্যাসপাইডস' (Aspides)-এর ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধি হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত করার বিষয়ে কোনো `আগ্রহ' নেই, খবর ইউরো নিউজের।
ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে কাল্লাস সাংবাদিকদের বলেন, "আলোচনায় উঠে এসেছে যে অ্যাসপাইডসকে শক্তিশালী করা উচিত কারণ এতে পর্যাপ্ত নৌ-সম্পদ নেই। কিন্তু আমরা এই ম্যান্ডেট হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত করব কি না—সে বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর কোনো আগ্রহ ছিল না।"
তিনি আরও যোগ করেন, "কেউই এই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে জড়াতে চায় না।"
ইরানের সাথে যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপের করণীয় নিয়ে আলোচনার জন্য ইইউ-এর ২৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে একত্রিত হয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটেছে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। কাল্লাসের মন্তব্য মূলত এই প্রেক্ষাপটেই এসেছে।
মন্ত্রীরা বিশেষ করে অ্যাসপাইডসকে শক্তিশালী করা নিয়ে আলোচনা করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-পন্থী হুথিদের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর বারবার হামলার পর একটি রক্ষণাত্মক অভিযান হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অ্যাসপাইডসের লক্ষ্য হলো জাহাজ রক্ষা করা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর, আরব সাগর, ওমান উপসাগর এবং পারস্য উপসাগরসহ একটি বিশাল এলাকার সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
তবে সোমবার ট্রাম্পের আহ্বানে তেমন কোনো ফলাফল আসেনি কারণ ইইউ দেশগুলো অ্যাসপাইডসের পরিধি বাড়াতে আগ্রহী ছিল না।
বৈঠকে যাওয়ার সময় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল এই অভিযানে জার্মানির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। অন্যদিকে রোমানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানা-সিলভিয়া তোইউ ইঙ্গিত দেন যে বুখারেস্টও এই মিশনে জড়াতে চায় না, কারণ তাদের মনোযোগ কৃষ্ণ সাগরের নৌ সক্ষমতার ওপর রাখা প্রয়োজন।
লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলও একই ধরণের আপত্তি তুলে ধরেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে ইইউ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "স্যাটেলাইট বা যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা সহায়তা করতে পারলে খুব খুশি হতাম, কিন্তু আমাদের কাছে সেনা বা যুদ্ধ সরঞ্জাম চাইবেন না।"