ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

৬ চৈত্র ১৪৩২, ৩০ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
কিউবা: গভীরতর জ্বালানি সংকটে বছরের প্রথম রুশ তেল পেতে যাচ্ছে
Scroll
কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন্দ্র শাহ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ২৭ মার্চ
Scroll
দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় জুমাতুল বিদা পালিত
Scroll
সম্প্রীতির বন্ধনে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের ঈদের অঙ্গীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Scroll
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ চলছে
Scroll
আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর
Scroll
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
Scroll
বায়তুল মোকাররম মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের ৫টি জামাত
Scroll
সোশ্যাল মিডিয়া তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে
Scroll
মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি মূল্য উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে
Scroll
ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বিনিয়োগকারীরো ঝুঁকি না নিতে চাওয়ায় এশিয়ার বাজার মিশ্র
Scroll
পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার যে দীর্ঘ ইতিহাস
Scroll
ইইউ সম্মেলন: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা’র আহ্বান নেতাদের
Scroll
ঈদের দিন বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি
Scroll
চাঁদ দেখা যায়নি, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর
Scroll
কালীগঞ্জে অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ
Scroll
ভোলার ১৭টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবারের ঈদ শুক্রবার
Scroll
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা
Scroll
সমুদ্র উপকূল জুড়ে ইংল্যান্ডের ২,৬৮৯ মাইল দীর্ঘ ফুটপাথ

সোশ্যাল মিডিয়া তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে

শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪:০৮, ২০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৯, ২০ মার্চ ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়া তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইংরেজিভাষী দেশ এবং পশ্চিম ইউরোপের কিশোরীরা এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার গত বৃহস্পতিবার বার্ষিক 'ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট' প্রকাশ করেছে, যা তরুণ প্রজন্মের সুখের অবস্থার একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে, রিপোর্ট করেছে রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল। 

গত এক দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ২৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গড়ে ইংরেজিভাষী এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর তরুণদের সুখের মাত্রা ১০-এর স্কেলে প্রায় ১ পয়েন্ট কমে গেছে।

গবেষকরা এর পেছনে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকে একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ১৫ বছর বয়সীদের ওপর করা একটি জরিপে দেখা গেছে, যারা দিনে ৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটায়, তাদের জীবনের সন্তুষ্টির মাত্রা অন্যদের তুলনায় অনেক কম।

সুখ ও সন্তুষ্টির পতন: গত এক দশকে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের ২৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১০-এর স্কেলে এই হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ১ পয়েন্ট।

অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী দিনে ৫ ঘণ্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা অন্যদের তুলনায় অনেক কম।

স্বল্প ব্যবহারের সুফল: মজার বিষয় হলো, যারা একদমই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে না, তাদের চেয়ে যারা দিনে ১ ঘণ্টার কম সময় এটি ব্যবহার করে, তাদের মানসিক অবস্থা বা 'ওয়েল-বিয়িং' সবচেয়ে ভালো।

গড় ব্যবহার: ওএইসিডি (OECD)-এর তথ্যমতে, বর্তমানে কিশোর-কিশোরীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় কাটায়।

ভালো বনাম খারাপ প্ল্যাটফর্ম

প্রতিবেদনে সব ধরনের প্ল্যাটফর্মকে এক পাল্লায় মাপা হয়নি:

ক্ষতিকর: যেসব প্ল্যাটফর্ম অ্যালগরিদম, ইনফ্লুয়েন্সার এবং শুধু ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টের ওপর নির্ভরশীল (যেমন: টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের ফিড), সেগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর।

ইতিবাচক: সরাসরি যোগাযোগ বা মেসেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের মধ্যে সামাজিকতা বাড়ায় এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যান-ইমানুয়েল ডি নেভ বলেন: > "আমাদের উচিত সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে আবার সেই 'সোশ্যাল' বা সামাজিক যোগাযোগের আসল রূপটি ফিরিয়ে আনা।"

বৈশ্বিক ভিন্নতা

সব দেশে চিত্রটি এক নয়। মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে সুখের মাত্রায় তেমন কোনো ঘাটতি হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি মানুষের ভালো থাকাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।

বর্তমানে ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশ আইন করে কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে।
গবেষকরা এর পেছনে সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তারা বলছেন যে বেশ কিছু অঞ্চলে তরুণদের ভালো থাকার হার কমে যাওয়ার পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার এখনও একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।

সামগ্রিকভাবে ইংরেজিভাষী এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর বাইরের তরুণরা তাদের জীবন নিয়ে বেশ ভালো বোধ করছে। গ্যালাপ-এর প্রধান নির্বাহী জন ক্লিফটন, যিনি এই প্রতিবেদনে জরিপের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, তিনি বলেন যে বিশ্বের অধিকাংশ তরুণ ২০ বছর আগের তুলনায় আজ বেশি সুখী এবং এই প্রবণতাটি বিশেষ মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য।

ফ্রান্স এই তালিকার র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৫তম স্থানে রয়েছে, যা দেশটির জন্য এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন অবস্থান। ২০২১ সালে ২০তম অবস্থানে পৌঁছানোর পর থেকে দেশটির অবস্থান ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে।

সূচকের শীর্ষে ফিনল্যান্ড টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের খেতাব ধরে রেখেছে। এর পরেই রয়েছে তাদের নর্ডিক প্রতিবেশী দেশ আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং নরওয়ে। সম্পদ, আয়ের তুলনামূলক সমান বণ্টন, শক্তিশালী কল্যাণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ গড় আয়ুর কারণে এই দেশগুলো ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করছে।

এদিকে কোস্টারিকা একটি সফল দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৩ সালে ২৩তম অবস্থানে থাকা দেশটি এবার লাফিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। গবেষকরা এই উন্নতির পেছনে শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন, যা মানুষের ভালো থাকাকে অর্থবহভাবে বাড়িয়ে দেয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে ২০২৬ সাল হলো টানা দ্বিতীয় বছর যেখানে শীর্ষ ১০-এর মধ্যে কোনো ইংরেজিভাষী দেশ নেই। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ২৩তম, কানাডা ২৫তম এবং যুক্তরাজ্য ২৯তম অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং অস্থিরতার সম্মুখীন দেশগুলো তালিকার সবচাইতে নিচে অবস্থান করছে। আফগানিস্তান আবারও সবার শেষে রয়েছে এবং এর ঠিক আগেই রয়েছে সিয়েরা লিওন ও মালাউই।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন