শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭:১৫, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্যায়াম বা শরীরচর্চা কেবল আমাদের পেশিকে শক্তিশালী করে না, বরং এটি আমাদের মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যপদ্ধতিকেও পুনর্গঠিত (Rewire) করে। এই পরিবর্তনগুলোই মূলত একজন অ্যাথলেট বা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রম করার শক্তি ও মানসিক দৃঢ়তা জোগায়।
লন্ডন-ভিত্তিক বিজ্ঞান বিষয়ক নেচার পত্রিকায় বৃহষ্পতিবার ‘Exercise rewires the brain — boosting the body’s endurance’ নামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এটির মূল বিষয়বস্তু হলো:
নিউরন ও সংকেত আদান-প্রদান: নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স এবং অন্যান্য অংশগুলোর মধ্যে সংযোগ আরও উন্নত হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক আরও দক্ষতার সাথে পেশিকে সংকেত পাঠাতে পারে, যা ক্লান্তি অনুভব করার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে।
সহনশীলতার রহস্য: গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ফলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু পথ পরিবর্তিত হয়। এটি শরীরকে শেখায় কীভাবে ব্যথার অনুভূতি বা চরম ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে হয়।
ডোপামিন ও মোটিভেশন: ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়ে। এটি কেবল আমাদের আনন্দই দেয় না, বরং শরীরের 'সহনশীলতা সীমা' (Endurance limit) বাড়িয়ে দেয়।
প্রাণের প্রভাব: এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে, স্ট্যামিনা বা সহনশীলতা কেবল ফুসফুসের ক্ষমতা বা পেশির শক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি আমাদের মস্তিষ্কের একটি বিশেষ দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ।
সারকথা: আপনি যখন দৌড়ান বা কঠোর পরিশ্রম করেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক আসলে নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করছে যাতে পরবর্তী সময়ে আপনি আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।
জেমিনাই যোগ করেছে: ডোপামিন কীভাবে সহনশীলতা বৃদ্ধি করে?
ডোপামিনকে বলা হয় মস্তিষ্কের 'রিওয়ার্ড কেমিক্যাল' বা পুরস্কারের অনুভূতি সৃষ্টিকারী হরমোন। শরীরচর্চার সময় এটি যেভাবে কাজ করে:
ক্লান্তি প্রতিরোধ: আমাদের মস্তিষ্ক যখন মনে করে শরীর অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তখন সে 'সেন্ট্রাল গভর্নর' হিসেবে কাজ করে আমাদের থামিয়ে দিতে চায়। ডোপামিন এই ক্লান্তির সংকেতকে কিছুটা দমিয়ে রাখে, ফলে আমরা দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম চালিয়ে যেতে পারি।
অনুপ্রেরণা বা মোটিভেশন: ডোপামিন আমাদের লক্ষ্য পূরণের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়। ব্যায়ামের শুরুতে বা মাঝপথে যখন শরীর ছেড়ে দিতে চায়, তখন ডোপামিনের প্রবাহ আমাদের মনে "আরও একটু করা সম্ভব" এমন জেদ তৈরি করে।
আনন্দের অনুভূতি (Runner's High): ব্যায়ামের পরে বা চলাকালীন যে পরম তৃপ্তির অনুভূতি হয়, তা মূলত ডোপামিন ও এন্ডোরফিনের সংমিশ্রণ। এটি শরীরচর্চাকে একটি যন্ত্রণাদায়ক কাজের বদলে উপভোগ্য অভ্যাসে পরিণত করে।
২. কোন ধরনের ব্যায়াম মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে কার্যকর?
নেচার ম্যাগাজিন এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুযায়ী, সব ব্যায়ামই উপকারী, তবে মস্তিষ্কের রিওয়াইরিং বা নতুন সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রে নিচেরগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়:
ক) অ্যারোবিক বা কার্ডিওভাসকুলার এক্সারসাইজ (Aerobic)
যেমন: দৌড়ানো, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো।
কেন: এগুলো মস্তিষ্কে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক প্রোটিন বাড়ায়, যা নতুন নিউরন তৈরিতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এটি স্ট্যামিনা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
খ) উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম (HIIT)
যেমন: খুব দ্রুত দৌড়ে আবার কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া (ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং)।
কেন: এটি খুব দ্রুত ডোপামিন এবং এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে। স্বল্প সময়ে মস্তিষ্কের সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য এটি সেরা পদ্ধতি।
গ) কৌশলগত বা জটিল ব্যায়াম (Skill-based)
যেমন: টেনিস খেলা, রক ক্লাইম্বিং বা মার্শাল আর্টস।
কেন: এতে শুধু শরীর নয়, বরং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মস্তিষ্ককেও প্রচুর খাটতে হয়। এটি মস্তিষ্কের 'মোটর কর্টেক্স' অংশকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করে।