ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

১ মাঘ ১৪৩২, ২৬ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
পত্রিকা: ’রাতের ভোটে লেনদেন ১০ হাজার কোটি’
Scroll
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসার কাজ স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র
Scroll
২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছে চট্টগ্রামে
Scroll
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা
Scroll
আইন না থাকার কারণেই কি কমছে নারী প্রার্থীর সংখ্যা?
Scroll
জাপানে উচ্চ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অফুরন্ত: জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
Scroll
তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোট ও সমমনা জোট নেতাদের সাক্ষাৎ
Scroll
রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ
Scroll
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে রাজকীয় ক্ষমা
Scroll
বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে: বিশ্বব্যাংক
Scroll
মনোনয়ন গ্রহণ, বাতিল: ইসিতে পঞ্চম দিনে আরো ৭৩ আপিল মঞ্জুর
Scroll
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ
Scroll
দেশের ক্রান্তিলগ্নে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সেনা প্রধান
Scroll
শুল্ক বাধা সত্ত্বেও চীনের রেকর্ড ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত
Scroll
স্বর্ণের দামে আবারও নতুন রেকর্ড, রুপার দাম ৯০ ডলারে পৌঁছেছে
Scroll
থাইল্যান্ডে ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ায় ২২ জনের প্রাণহানি, আহত ৩০
Scroll
নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
শিপিং কর্পোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্স বিধিমালা জারি করেছে এনবিআর
Scroll
নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবেলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

বিশ্ব ভ্রমণ

হাঁটছেন তিনি ২৭ বছর ধরে

ডেস্ক নিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪:৫৮, ২ জানুয়ারি ২০২৬

হাঁটছেন তিনি ২৭ বছর ধরে

২৭ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে হেঁটে চলেছেন ইংল্যান্ডের কার্ল বুশবি । ছবি: সিএনবিসি

তিনি ২৭ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে হেঁটে চলেছেন। দীর্ঘ এই যাত্রায় তিনি যে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি পেয়েছেন তা হলো—কীভাবে সুখী হতে হয়।

কার্ল বুশবি যখন ইংল্যান্ডের হাল (Hull) শহরে নিজের বাড়ি ছেড়ে জীবনের সবচেয়ে বড় অভিযানে বের হন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৯ বছর। পকেটে মাত্র ৫০০ ডলার আর কিছু বেঁচে থাকার সরঞ্জাম নিয়ে তিনি এমন এক মিশনে নামেন যা ইতিহাসের আর কেউ কখনো সম্পন্ন করতে পারেনি: বিরতিহীনভাবে হেঁটে পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা।

বুশবীর এই অভিযানের নাম "গোলিয়াথ এক্সপেডিশন" (Goliath Expedition), যা ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তের শহর চিলির পুন্তা আরেনাস থেকে শুরু হয়েছিল। এই দীর্ঘ পথ তাকে আমেরিকা, এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরিয়ে এনেছে এবং তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো হেঁটে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়া, বিপোর্ট সিএনবিসি’র। 

সিএনবিসি মেক ইট-কে (CNBC Make It) বুশবী বলেন, "আমার উদ্দেশ্য ছিল কোনো ধরনের যানবাহনের সাহায্য ছাড়াই কেবল নিজের চেষ্টায় বাড়ি পৌঁছানো।"

পুরো যাত্রায় বুশবী দুটি কঠোর নিয়ম মেনে চলছেন: প্রথমত, তিনি কেবল হাঁটতে বা সাঁতার কাটতে পারবেন, কোনো প্রকার পরিবহন ব্যবহার করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, পুরোপুরি পায়ে হেঁটে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের হাল শহরে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, "শুরুর দিকে এই দুটি নিয়ম খুব সহজ মনে হয়েছিল। কিন্তু যখন এই নিয়মগুলো বাস্তব পৃথিবীর মুখোমুখি হলো, তখন সবকিছু অনেক জটিল হয়ে উঠল—বিশেষ করে ভিসা সমস্যা, কঠিন সব সরকার ও শাসনব্যবস্থা এবং বিতর্কিত সব সীমান্ত পার হওয়ার ক্ষেত্রে।"

প্রতিদিন প্রায় ৩০ কিলোমিটার হাঁটার পাশাপাশি নানা অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা পেরিয়ে বুশবী এখন ইউরোপে পৌঁছেছেন। তিনি আশা করছেন, আগামী বছর তিনি তার যাত্রা শেষ করে ইংল্যান্ডে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন।

একজন যাযাবরের জীবন বুশবী ছোটবেলা থেকেই রোমাঞ্চপ্রিয় ছিলেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি তার ভাইয়ের সাথে সারাদিন বাইরে ঘুরে বেড়াতেন এবং কেবল রাতের খাবারের সময় বাড়ি ফিরতেন।
একটি সামরিক পরিবারে বড় হওয়া কার্ল বুশবি তার বাবার কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। বুশবি নিজেও ১৬ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং তার এই দীর্ঘ অভিযানে বের হওয়ার আগে প্রায় ১২ বছর প্যারাশুট রেজিমেন্টে সেবা দেন।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন এক পর্যায়ে বুশবি একঘেয়েমি অনুভব করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, "আমি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ১২ বছর কাটিয়েছি এমন কোথাও যাওয়ার অপেক্ষায় যেখানে আমরা উত্তর আয়ারল্যান্ড ছাড়া কখনোই যাইনি। আমরা আসলে ইতিহাসের অন্যতম শান্তিপূর্ণ একটি সময়ে বাস করছিলাম।"

তিনি আরও বলেন, "তাই আমরা বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম এবং আমাদের মনে কৌতুহল আর দুষ্টুমি দানা বাঁধছিল। এক সময় আমি ম্যাপের ওপর দাগ টানতে শুরু করলাম এবং সুদূর নীল দিগন্ত আর দীর্ঘ পথ নিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখতে থাকলাম। এভাবেই একটার পর একটা বিষয় এগোতে থাকে।"

একদিন বুশবি ম্যাপে যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে ইউরোপ, এশিয়া, সাইবেরিয়া, বেরিং প্রণালী হয়ে উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত একটি রেখা টানলেন। তিনি বলেন, "একবার যখন আমি ম্যাপে ওই রেখাটি আঁকলাম, তখন আর পেছনে ফেরার উপায় ছিল না... উত্তেজনায় আমার ঘাড়ের লোম খাড়া হয়ে গিয়েছিল।"

তাই ১৯৯৮ সালে বুশবি ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ছেড়ে এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে একটি সামরিক ফ্লাইটে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে যান এবং সেখান থেকে একটি সাধারণ ফ্লাইটে চিলির পুন্তা আরেনাসে পৌঁছান, যা ছিল তার অভিযানের শুরুর বিন্দু।

বুশবি বলেন, "রাস্তায় পা রাখার সেই প্রথম দিনটি ছিল চিরস্মরণীয়। কারণ সেই মুহূর্তে আপনি বাড়ি থেকে অনেক দূরে। আপনি আপনার ফেরার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। আপনি সবাইকে বলে এসেছেন যে, ঘরে ফিরে আসার চেয়ে আপনি মরে যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করবেন।"

তিনি আরও বলেন, "আপনার পকেটে মাত্র ৫০০ মার্কিন ডলার, কোনো ব্যাকআপ নেই, এটি কীভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই—আছে কেবল এক বুক বিশ্বাস যে আপনি কোনো না কোনোভাবে এটি সফল করবেন। আপনি এমন এক রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন যা প্রায় ৩৬,০০০ মাইল দীর্ঘ এবং সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই। আমার মনে হয়... ওই মুহূর্তে আপনি বৃহস্পতি গ্রহে মানববাহী অভিযানের চেয়েও বেশি কঠিন এক লক্ষ্যের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।"

সুখের শিক্ষা
গত ২৭ বছরের এই যাত্রায় বুশবি অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বিখ্যাত 'দারিয়েন গ্যাপ' পার হয়েছেন, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়েছেন, পানামায় জেল খেটেছেন, আলাস্কায় প্রচণ্ড ঠান্ডায় প্রায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘ ৩১ দিন ধরে সাঁতার কেটে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়েছেন।

এসবের পাশাপাশি মাইলের পর মাইল হাঁটার পর তাকে দিনের পর দিন অভুক্ত থাকতে হয়েছে, চিকিৎসার জন্য অপরিচিত মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে এবং অসংখ্য রাত রাস্তার ধারে তাবু খাটিয়ে একা কাটাতে হয়েছে।

বুশবি বলেন, "ক্ষুধার মনস্তত্ত্ব খুবই অদ্ভুত। এটি এমন কিছু যা আমাদের বেশিরভাগের কাছেই অপরিচিত। যখন আপনার কোনো ধারণা নেই যে পরবর্তী বেলার খাবার কোথা থেকে আসবে, তখন আপনি খাবার খোঁজার বিষয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন।"

তিনি আরও বলেন, "আপনি সব জায়গায় খাবার দেখবেন। প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি পাথর এমন কিছু মনে হবে যা আপনি খেতে পারেন। আপনি বেশিরভাগ সময় হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রমের পেছনে দৌড়ে বেড়াবেন।"এতসব চ্যালেঞ্জ জয় করার পর তিনি তার দীর্ঘ যাত্রায় যে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি পেয়েছেন, তার সাথে শারীরিক কষ্ট বা সহ্যক্ষমতার খুব একটা সম্পর্ক নেই। বরং সেই শিক্ষাটি ছিল সুখ নিয়ে—আর তা হলো, প্রকৃত সুখ আসে মানুষের সাথে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মধ্য দিয়ে।

বুশবি বলেন, "আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে গত ২৭ বছরে আমার করা সবচেয়ে কঠিন কাজ কোনটি—তবে আমি নির্দ্বিধায় বলব, ভালোবেসে কোনো নারীকে হারানো। এটিই আপনার মোকাবিলা করা সবচেয়ে কঠিন বিষয়... শারীরিক কষ্ট বা ব্যথা সহ্য করা সহজ, কিন্তু সম্পর্কের বিচ্ছেদ বা মানসিক যন্ত্রণার বিষয়টি একেবারেই আলাদা।"

অন্যদিকে তিনি বলেন, "আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলো ছিল তখন, যখন আমি কারো সাথে সম্পর্কে ছিলাম। কারো সঙ্গ পাওয়া বা পাশে কাউকে পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।"

তিনি বিশ্বজুড়ে আরও একটি শিক্ষা পেয়েছেন—পৃথিবীর সব সংস্কৃতি ও অঞ্চলের মানুষ সাধারণত খুবই দয়ালু। যাত্রাপথে অনেক সময় অপরিচিত মানুষেরা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন, খাবার খাইয়েছেন এবং সেবা করেছেন, যার বিনিময়ে তারা কিছুই চাননি।

বুশবি বলেন, "এমনকি আপনারা একই ভাষায় কথাও বলতে পারেন না, তাই কেবল হাসি আর মাথা নেড়েই ভাব বিনিময় করতে হয় এবং এরপর তারা আপনাকে বিদায় জানান... প্রতিটি দেশ আর প্রতিটি সংস্কৃতিতেই আমি এমন অসংখ্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "এই পৃথিবীটা বাইরে থেকে যতটা রুক্ষ মনে হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সুন্দর।"
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন