শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭:২০, ২ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে শিশুদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ফরাসি আইনপ্রণেতারা এই মাসেই একটি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে বিতর্ক শুরু করবেন। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
এই উদ্যোগটি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-র সমর্থনপুষ্ট। বুধবার তার বছরের শেষ ভাষণে তিনি বলেন, "আমাদের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এবং স্ক্রিন থেকে রক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে," খবর দিয়েছে রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন যে, পার্লামেন্ট জানুয়ারি মাসে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করবে। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, "অনেক গবেষণা ও প্রতিবেদন এখন কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।"
সরকার জানিয়েছে, ইন্টারনেটে অবাধ প্রবেশের সুযোগ থাকা শিশুরা "অনুপযুক্ত বিষয়বস্তুর" সংস্পর্শে আসতে পারে এবং সাইবার-হয়রানি বা তাদের ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
ডিজিটাল সুরক্ষা
খসড়া আইনটিতে দুটি ধারা রয়েছে। প্রথমটি হলো, কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১৫ বছরের কম বয়সী নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া পরিষেবা প্রদান করাকে অবৈধ ঘোষণা করা। দ্বিতীয়টি হলো, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
ম্যাক্রোঁ শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা প্রদানকে তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য রাখা নিয়ে অতীতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালে ১৫ বছর বয়সের জন্য একটি "ডিজিটাল লিগ্যাল এজ" বা ডিজিটাল আইনি বয়স নির্ধারণ করে ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম লঙ্ঘন করেছিল, যা পরে স্থগিত করা হয়।
প্রাক-প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা ২০১৮ সালে কার্যকর করা হয়েছিল, তবে তা খুব কমই বাস্তবায়িত হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে "ডিজিটাল পজ" বা ডিজিটাল বিরতি কার্যকর করা হয়, যেখানে শুধু ফোন বন্ধ রাখা নয় বরং পুরো স্কুল সময়ের জন্য ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
ফরাসি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেট এই মাসে কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার থেকে রক্ষা করার জন্য একটি পৃথক উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য পিতামাতার অনুমতির প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সেনেটের এই প্রস্তাবটি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে জমা দেওয়া হয়েছে, যা আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে অবশ্যই সেখানে অনুমোদিত হতে হবে।
ক্ষতিকারক কন্টেন্ট
তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই এই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে টিকটকের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তদন্তকারী একটি ফরাসি সংসদীয় কমিশন ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার এবং ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য একটি "ডিজিটাল কার্ফু" চালু করার সুপারিশ করেছিল।
২০২৪ সালের শেষের দিকে সাতটি পরিবার টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা করার পর গত মার্চ মাসে এই কমিশন গঠন করা হয়। পরিবারগুলোর অভিযোগ ছিল যে, প্ল্যাটফর্মটি তাদের সন্তানদের এমন সব কন্টেন্ট দেখিয়েছে যা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে "নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার" সময় এসেছে। তবে ইউটিউব, মেটা এবং অন্যান্য শিল্প গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।