ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

১৭ ফাল্গুন ১৪৩২, ১২ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে: মির্জা ফখরুল
Scroll
ইরানের পরিস্থিতিতে স্থগিত ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণে সরকারের নজরদারি
Scroll
মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছুদের সহায়তায় মন্ত্রণালয়ের হটলাইন চালু
Scroll
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
Scroll
শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Scroll
খামেনির মৃত্যু: করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ, গুলিতে নিহত ৯
Scroll
ইরানে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানাল বাংলাদেশ
Scroll
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালকে ৫শ’ বেডে উন্নীত করা হবে : মির্জা ফখরুল
Scroll
রমজানের পরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন : ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ
Scroll
দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা নেয়ার মাত্র ১৩ দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি
Scroll
প্রধানমন্ত্রী ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাঝেও বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন
Scroll
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শেয়ার বাজারে দরপতন, তেলের দাম বাড়তি
Scroll
সব পক্ষকে ‘যৌক্তিক আচরণের’ আহ্বান জাতিসংঘের
Scroll
জাহাজ কোম্পানি তাদের জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ
Scroll
জেদ্দা-রিয়াদ-মাস্কাটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলবে আজ থেকে
Scroll
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের স্কুলে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮
Scroll
ইরানের মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টাহামলা
Scroll
পত্রিকা: ’জ্বালানিতে বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ’
Scroll
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন
Scroll
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আকাশসীমা বন্ধ করেছে, অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল

দক্ষিণ এশীয়দের দুধ হজম করার ক্ষমতা বেশি: গবেষণা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩:৪৮, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৩:৪৯, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ এশীয়দের দুধ হজম করার ক্ষমতা বেশি: গবেষণা

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।


ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের প্রায় ৮,০০০ মানুষের জিনোম (Genome) বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, দক্ষিণ এশীয়দের দুধ হজম করার এই বিশেষ ক্ষমতাটি মূলত প্রাচীন স্টেপ (Steppe) চারণজীবী বা পশুপালকদের থেকে এসেছে।

চারণ বংশগতি ও দুধ সহনশীলতা: গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ দক্ষিণ এশীয়দের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় দুধ হজম করার ক্ষমতা এসেছে প্রাচীন স্টেপ চারণজীবীদের হাত ধরে। প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ বছর আগে কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চল থেকে এই পশুপালকরা ভারতীয় উপমহাদেশে আসতে শুরু করেন।

ল্যাকটেজ পারসিস্টেন্স (Lactase Persistence): সাধারণত মানুষের দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) হজম করার জন্য ল্যাকটেজ নামক এনজাইম প্রয়োজন হয়। শৈশবের পর অনেকের শরীরেই এই এনজাইম তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই বিশেষ জিনগত পরিবর্তনের ফলে অনেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও দুধ হজম করতে পারেন, খবর টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার। 

ব্যতিক্রমী কিছু গোষ্ঠী: দক্ষিণ ভারতের তোদা (Toda) এবং উত্তর-পশ্চিম ভারত ও পাকিস্তানের গুজ্জর (Gujjar) সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তাদের যাযাবর বা পশুপালন ভিত্তিক জীবনযাত্রার কারণেই এই বিশেষ ক্ষমতাটি তাদের মধ্যে প্রবলভাবে টিকে আছে।

ভৌগোলিক বিন্যাস: গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ হজম করার এই ক্ষমতাটি উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে সবচেয়ে বেশি এবং পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে এটি ক্রমশ কমতে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্ব দিকে এই ক্ষমতা প্রায় নেই বললেই চলে।

গবেষণার গুরুত্ব:
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-র গবেষক প্রিয়া মুরজানি এবং ভারত ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানীদের এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় দুধ হজম করার এই জিনগত সক্ষমতা মূলত ঐতিহাসিক এবং মধ্যযুগীয় সময়ে স্টেপ পশুপালকদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় এই বৈশিষ্ট্যটি প্রায় পুরোপুরিভাবে স্টেপ বংশগতির (Steppe ancestry) সাথে সম্পর্কিত।
এই গবেষণার বাকি অংশটিও অত্যন্ত চমকপ্রদ। নিচে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সহজ বাংলা সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

দক্ষিণ এশিয়ায় দুধ হজম করার ক্ষমতার বিন্যাস ও বিবর্তন
সাম্প্রতিক এই জিনোম বিশ্লেষণ দক্ষিণ এশীয়দের খাদ্যাভ্যাস এবং বিবর্তন সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য সামনে এনেছে:

১. আঞ্চলিক ভিন্নতা
গবেষণায় দেখা গেছে যে, দুধ হজম করার এই ক্ষমতাটি (Lactase persistence) ভারতের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, কিন্তু পূর্ব এবং দক্ষিণ দিকে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়:

উত্তর ভারত ও পাকিস্তান: প্রায় ৪৫% মানুষের এই ক্ষমতা রয়েছে।

পূর্ব ভারত: এটি কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৪% এ।

দক্ষিণ ভারত: মাত্র ৭% মানুষের মধ্যে এই ক্ষমতা দেখা যায়।

২. ব্যতিক্রম: তোদা ও গুজ্জর সম্প্রদায়
যদিও দক্ষিণ ভারতে দুধ হজম করার ক্ষমতা সাধারণভাবে কম, কিন্তু দক্ষিণ ভারতের তোদা (Toda) এবং উত্তর-পশ্চিমের গুজ্জর (Gujjar) সম্প্রদায়ের মধ্যে এই হার বিস্ময়করভাবে বেশি—প্রায় ৮৯%। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সরাসরি কাঁচা দুধের ওপর নির্ভরশীল থাকার কারণে তাদের শরীরে এই বিবর্তনমূলক পরিবর্তনটি প্রবল হয়েছে।

৩. প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ
প্রিয়া মুরজানি এবং তাঁর দল মোট ৮,১৭৩টি জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে ১৮১টি প্রাচীন জিনোম রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার (Swat Valley) এবং এগুলো প্রায় ৩,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পুরোনো। হায়দ্রাবাদের সিসিএমবি-র (CCMB) বিজ্ঞানী কুমারস্বামী থাঙ্গারাজ জানান, বর্তমান দক্ষিণ এশীয়দের দুধ হজম করার ক্ষমতার পার্থক্য মূলত তাদের শরীরে থাকা স্টেপ বংশগতির (Steppe ancestry) পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।

৪. "সাংস্কৃতিক সমাধান" (Cultural Solutions)
মজার বিষয় হলো, দক্ষিণ এশিয়ায় হাজার বছর ধরে দুগ্ধজাত দ্রব্যের প্রচলন থাকলেও সবার শরীরে ল্যাকটোজ হজম করার ক্ষমতা নেই। এই সমস্যা সমাধানে আমাদের পূর্বপুরুষরা কিছু কৌশল বের করেছিলেন:

ফার্মেন্টেশন (Fermentation): সরাসরি দুধ না খেয়ে তারা দই, পনির বা ছানা তৈরি করে খেতেন।

বিজ্ঞান: দই তৈরির সময় ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোজকে ভেঙে ফেলে এবং দইয়ের প্রোবায়োটিক অবশিষ্ট ল্যাকটোজ হজমে সাহায্য করে। এই কারণেই ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট হয়েও অনেকে দই অনায়াসেই হজম করতে পারেন।

৫. জিনের উৎস
২০১২ সালের একটি গবেষণার সূত্র ধরে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ায় দুধ হজম করার এই বিশেষ জিনটি মূলত ইউরোপে উদ্ভূত একটি জিনের রূপান্তর। এটি আফ্রিকা বা দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাধীনভাবে তৈরি হয়নি, বরং মাইগ্রেশনের মাধ্যমেই এখানে পৌঁছেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন