শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৭:৪১, ১৯ মার্চ ২০২৬
ছবি: বাসস
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘নীল সাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির ৯টি বগি বগুড়ার সান্তাহারে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় লাইনচ্যুত হয়েছিল। যার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিল ট্রেনের যাত্রীরা। চালকের অবহেলার কারণে বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়ে পড়লে এই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ফলে প্রায় ২১ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচলে স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার ১৯ মার্চ সকাল ১১টা থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল চলাচল শুরু হয়। এদিন বেলা ১২টার দিকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন।
এরআগে গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় সান্তাহার জংশন স্টেশনের বাগবাড়ী দক্ষিণ পাড়া নামক স্থানে ঢাকা থেকে আসা ‘নীল সাগর ট্রেনের’ ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এঘটনায় প্রায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
এরপর একইদিন সন্ধ্যায় ট্রেনের লাইনচ্যুত ৯টি বগি উদ্ধারে ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে ২টি রিলিফ ট্রেন আনা হয়। সংশ্লিষ্টদের সারারাত অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। লাঘব হয়েছে ঈদে ঘরমুখী ট্রেন যাত্রীর দূর্ভোগ।
স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরদী ও পাকশী থেকে দু’টি রিলিফ ট্রেন আনা হয়েছিল। লাইনচ্যুত ট্রেনের বগিগুলো সারারাত উদ্ধার কাজ চলেছে। এরমধ্যে উদ্বারকৃত ৫টি বগি নিয়ে গিয়েছে। আর চারটি বগি পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে এখনও সেখানে কাজ চলছে।
উল্লেখ, বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘নীল সাগর’ ট্রেনটি সান্তাহার জংশন স্টেশনের বাগবাড়ী দক্ষিণ পাড়া নামক স্থানে পৌঁছলে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা চালকের অদক্ষতা ও স্টেশনের সহকারী মাস্টারের দায়িত্ব অবহেলায় হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
এদিকে ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহার সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের চালক পলাতক রয়েছে। অপরদিকে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।