ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২১ মাঘ ১৪৩২, ১৫ শা'বান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
ট্রাম্প ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন বিলে স্বাক্ষর, সরকারি অচলাবস্থার অবসান
Scroll
উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব কোথায়?
Scroll
ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে
Scroll
ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত
Scroll
নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা: তারেক রহমান
Scroll
শিক্ষা আইনের খসড়া: কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান
Scroll
আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট
Scroll
নাম পরিবর্তন: র‌্যাব হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স, বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Scroll
মানবজাতির সংযম ও সৌহার্দ্য অর্জনে নিবেদিত রাখার আহ্বান তারেক রহমানের
Scroll
সাভার-আশুলিয়াবাসীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে চাই: এনসিপি প্রার্থী দিলশানা পারুল
Scroll
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য নয়
Scroll
হামলার হুমকির মধ্যেই তুরস্কে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
Scroll
কৃত্রিম ফুসফুসের চিকিৎসা ব্যবহার নিয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে: গবেষণা
Scroll
ট্রাম্প-মোদি সমঝোতা: রাশিয়ান তেল বর্জন এবং শুল্ক হ্রাস
Scroll
শবে বরাতে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
Scroll
অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা
Scroll
আচরণবিধি ভঙ্গের ১৭৬ মামলায় ১৮ লাখ টাকা জরিমানা
Scroll
তরুণ ভোটারদের সঙ্গে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের চায়ের আড্ডা
Scroll
বিএনপি সরকার গঠন করলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: তারেক রহমান
Scroll
ঢাকা মহানগর ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

বললেন যুক্তরাষ্ট্রের গর্ডন জেমস ক্লিঙ্গেনশ্মিট

খৃষ্টান সম্প্রদায়, ছোট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হলে ব্যবস্থা

বিজবাংলা সাক্ষাৎকার

প্রকাশ: ১৫:৩৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

খৃষ্টান সম্প্রদায়, ছোট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হলে ব্যবস্থা

গর্ডন জেমস ক্লিঙ্গেনশ্মিট, পিএইচডি। ছবি: বিজবাংলা

গর্ডন জেমস ক্লিঙ্গেনশ্মিট পিএইচডি, যাকে তার অনুসারীরা প্রায়ই "ডক্টর চ্যাপস" বলে ডাকেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর একজন প্রাক্তন চ্যাপলিন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সাবেক রাজনীতিক। তিনি মূলত সামরিক বাহিনীতে ধর্মীয় প্রার্থনার অধিকার এবং তার একাধিক মামলা জিতে খৃষ্ট ধর্মের পক্ষে প্রচার কাজের জন্য মার্কিন ‍যুক্তরাষ্ট্র সহ নানা দেশে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি এখন বাংলাদেশ ভ্রমণ করছেন। ঢাকায় একটি টিওটি অনুষ্টানে তিনি বিজবাংলাকে সংক্ষিপ্ত একটি সাক্ষাৎকার  দিয়েছেন। তার বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে রয়েছে How to See the Holy Spirit, Angels, and Demons, ও How To Liberate The World। এছাড়া, তিনি অনেক পুস্তিকাও লিখেছেন।  
গর্ডন ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ১৫ নম্বর জেলা থেকে রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি "প্রে ইন জেসাস নেম মিনিস্ট্রিস" নামক সংগঠনের মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন এবং "পিআইজেএন নিউজ" (PIJN News) নামে একটি টেলিভিশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন।

ক্লিঙ্গেনশমিট জাতীয়ভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রক্ষণশীল সামাজিক নীতির পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। শিক্ষাগতভাবে তিনি রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে থিওলজিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তার প্রচারণায় প্রায়ই তার একাডেমিক ও সামরিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।

গর্ডনের সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো: 
বিজবাংলা: যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি আধুনিক রাষ্ট্রে যিশুর নামে প্রার্থনা করার জন্য আপনাকে প্রচণ্ড এবং অসহ্য চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আপনি মার্কিন নৌবাহিনীর মতো বিশাল সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করেছেন এবং জয়ী হয়েছেন। কিন্তু ছোট অথচ ভাড়াটে-গণতান্ত্রিক (mercenary-democratic) রাষ্ট্রে এই ধরনের নিপীড়নের মোকাবিলা করা কঠিন। তাহলে এই দেশগুলোতে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে আমরা কীভাবে কথা বলতে পারি?

গর্ডন: বাংলাদেশে খ্রিস্টানরা সংখ্যালঘু। সরকারের সাথে কোনো সমস্যায় পড়লে এটি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আমার মনে হয় আপনার একজন মহান ঈশ্বর আছেন, আমার মনে হয় যিশু হলেন সর্বোচ্চ ঈশ্বর, এবং আপনার কাছে গণতন্ত্রের হাতিয়ারও আছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে যে ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রতিটি সংখ্যালঘু, প্রতিটি ধর্ম এবং প্রতিটি নাগরিকের তাদের ধর্ম বিশ্বাস করার, পালন করার এবং প্রচার করার ক্ষমতা ও মৌলিক অধিকার রয়েছে। সুতরাং আপনি কথা বলতে পারেন, আপনার ধর্মের জন্য আপনার বাকস্বাধীনতা আছে, আপনি ধর্ম পালন করতে পারেন, নিজের হাতে আপনার ধর্মের মানুষের সেবা করতে পারেন এবং আপনি প্রচার করতে পারেন... এর অর্থ হলো মাঠে কৃষকের মতো বীজ বপন করা এবং ফসল ও ফল ফলানো। সুতরাং আপনার এই মৌলিক অধিকারগুলো রয়েছে এবং সরকার সেগুলো কেড়ে নিতে পারে না। যদি কোনো পুলিশ সদস্য এসে বলে যে আপনাকে অবশ্যই যিশু সম্পর্কে কথা বলা বন্ধ করতে হবে, তবে আপনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, কারণ আপনার এই মৌলিক অধিকারগুলো রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে উদারপন্থী ধর্মীয় মানুষরা এখন চরমপন্থী ও সহিংস ধর্মীয় আচরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি দক্ষিণ এশিয়া এবং অন্যান্য স্থানে দৃশ্যমান। আপনি কি মনে করেন যে প্রকৃত ধর্ম এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করা সেই সব ধর্মীয় আচার ও রীতিনীতির বিপরীত, যা মানুষ ৬০, ৭০ বা ৮০-এর দশকে পালন করত?

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দুটি উপায় আছে বলে আমি মনে করি। প্রথমটি হলো, সেরা কৌশল কোনটি তা আমাদের তুলনা করতে হবে: ধর্মীয় স্বাধীনতাই হলো সেরা, স্বাধীনতার বিপরীত হলো দাসত্ব। আর কেউ দাসত্ব চায় না। তাই না? শান্তি বা সহিংসতার মধ্যেও দুটি পছন্দ রয়েছে। অবশ্যই আমরা শান্তি বেছে নিই, আমরা অহিংসাকে বেছে নিই। তবে আমি মনে করি অন্য কিছু ধর্মে কিছু চরমপন্থী রয়েছে, আশা করি খ্রিস্টধর্মে নেই। অন্য ধর্মে তারা সহিংসতা চায় এবং তারা দাসত্ব চায়। আমি মনে করি খ্রিস্টান হিসেবে আমাদের কাজ হলো শান্তিকে বেছে নেয়া আর অন্য গাল বোড়িয়ে দেয়া, অহিংসার সাথে থাকা । ধৈর্য এবং প্রার্থনার মাধ্যমে আমাদের ঈশ্বর আমাদের শান্তি দেবেন এবং আমাদের বিজয় দান করবেন। তাই, আমাদের ভালোবাসার সাথে নিজেদের অধিকারের জন্য দাঁড়াতে হবে। সহিংসতা ছাড়াই আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে জেদ বজায় রাখতে হবে।

বিজবাংলা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় সহনশীলতার অবস্থা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? এখানে কি খ্রিস্টান, হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? যদি অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে তবে রাষ্ট্রের কী করা উচিত?

গর্ডন: ওহ, হ্যাঁ। এখানে সুসংবাদও আছে আবার দুঃসংবাদও আছে। আমি বাংলাদেশে ভালো এবং মন্দ উভয় দিকই লক্ষ্য করেছি। ভালো দিকটি হলো আপনাদের এখানে নতুন নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবং একনায়ককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সহিংস সরকারের পতন ঘটেছে। এখন মানুষ তাদের পরবর্তী নেতা বেছে নেবে এবং তারা গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে ব্যালট পেপারে তাদের নতুন সরকার নির্বাচন করবে। এটি সুসংবাদ। দুঃসংবাদ হলো, গত ১৮ মাসে—অর্থাৎ ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর থেকে—সরকারের পক্ষ থেকে না হলেও অপরাধীদের দ্বারা ধর্মীয় সহিংসতা এখনো ঘটছে। অপরাধী এবং সন্ত্রাসীরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২,৪০০টি সহিংসতা ও হুমকির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে, তবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও ঘটেছে। আমরা বিভিন্ন প্রতিবেদন শুনছি এবং অনেক প্রমাণও আছে যে, শান্তিপ্রিয় ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আইনি অভিযোগ দায়ের করছেন। তারা কেবল শান্তিতে থাকতে চায়; তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা চায়। কিন্তু অপরাধীরা সহিংসতা ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং আমাদের দাবি জানানো উচিত যেন সরকার তাদের থামায়।

বিজবাংলা আপনার কী মনে হয়... নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে যদি সংখ্যালঘু ধর্মের মানুষের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, তবে মার্কিন সরকার কী পদক্ষেপ নিতে পারে?

গর্ডন: আমি মার্কিন সরকারের হয়ে কথা বলছি না। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়েও বলছি না, তবে আমি আইনের একজন ছাত্র এবং আমি বুঝি যে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর জোর দেয়। আমেরিকায় আমাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি আইন আছে, যার মাধ্যমে খারাপ দেশগুলোকে একটি খারাপ তালিকায় রাখা হয়। একে বলা হয় 'কান্ট্রিজ অফ পার্টিকুলার কনসার্ন' (CPC) তালিকা। বর্তমানে উত্তর কোরিয়া ও ইরানসহ ১৩টি খারাপ দেশ এই তালিকায় রয়েছে যারা ধর্মের কারণে নিজ নাগরিকদের শাস্তি দেয়। সুতরাং, যদি কোনো দেশ সেই তালিকায় থাকে, তবে আমেরিকা বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে, আমরা অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেব। এমনকি আমরা সামরিক বাহিনীও পাঠাতে পারি; যেমন সম্প্রতি নাইজেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান সৈন্য পাঠিয়েছিলেন নাইজেরিয়া সরকারকে সন্ত্রাসী এবং অন্যান্য প্রতিকূল ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করার জন্য। সুতরাং, যখন সহিংসতা ঘটে, তখন প্রতিটি সরকারকে অবশ্যই সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে হবে। আর তারা যদি এটি করতে ব্যর্থ হয়, তবে আমেরিকা খ্রিস্টানদের রক্ষা করবে এবং আমেরিকা সংখ্যালঘুদের রক্ষা করবে... নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এমনই ছিল।

আরও পড়ুন