শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৮:৫৮, ১৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫৮, ১৮ মার্চ ২০২৬
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। ছবি: বাসস।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে। এ বছর অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাঁচ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈদের জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এই জামাতে ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এ.ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।
নিরাপত্তার স্বার্থে টুপি, জায়নামাজ এবং মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ছাতা বহন করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাইমুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার ড. এস.এম. ফরহাদ হোসেন আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ঈদের জামাতের জন্য প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার ড. এস.এম. ফরহাদ হোসেন জানান, ২০১৬ সালের ঘটনার পর থেকে প্রতি বছরই বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বছরও চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে এবং প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ময়দানের ভেতরে ও চারপাশে একাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ারের মধ্যে চারটি পুলিশ এবং দুটি র্যাব ব্যবহার করবে।
তিনি আরও জানান, পুরো মাঠ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকার পাশাপাশি চারটি ড্রোন ক্যামেরা এবং ছয়টি ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সুইপিং টিম এবং কুইক রেসপন্স টিমও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের পাশাপাশি ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে।
র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নাইমুল ইসলাম জানান, স্নাইপার, ড্রোন ক্যামেরা এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। র্যাব সদস্যরা ইউনিফর্ম এবং সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই।
ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, মাঠ প্রস্তুতি, রং করা এবং অজু ও গোসলের ব্যবস্থাসহ মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ এবং ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে "শোলাকিয়া এক্সপ্রেস" নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহে এক জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, একজন নারী এবং এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত এবং ১৬ জন মুসল্লি আহত হন। এরপর থেকে প্রতি বছরই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যদিও ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমেনি।
ঐতিহ্য অনুসারে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের মোনাজাতে "সোয়া লাখ" মুসল্লির উপস্থিতির উল্লেখ থেকে "শোলাকিয়া" নামের উৎপত্তি হয়েছে। ১৯৫০ সালে দেওয়ান মান্নান দাদ খান ঈদগাহের জন্য ৪.৩৫ একর জমি দান করেন। বর্তমানে এই ময়দানে ২৬৫টি সারিতে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।