ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

দর্শনার্থীদের আগমনে আনন্দমুখর ভোলার পর্যটন এলাকা

আল-আমিন শাহরিয়ার, বাসস

প্রকাশ: ১৩:৫১, ২৪ মার্চ ২০২৬

দর্শনার্থীদের আগমনে আনন্দমুখর ভোলার পর্যটন এলাকা

ভোলার ৭টি উপজেলার বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো আনন্দমুখর হয়ে উঠেছে। ছবি: বাসস

ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে দ্বীপ জেলা ভোলার ৭ উপজেলার বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো আনন্দমুখর হয়ে উঠেছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সি নারী-পুরুষের ভিড়ে জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। 

পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কমপক্ষে অর্ধশত বিনোদন কেন্দ্র ও রিসোর্ট রয়েছে। এগুলোর সবই ব্যক্তি মালিকানাধীন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা সদর, ভোলার তুলাতুলির ইলিশ বাড়ি, ইলিশা রিসোর্ট, দিঘলদীর তেঁতুলিয়া স্পট ও চরফ্যাশনের বেতুয়া নদী পাড়ের প্রশান্তি পার্কসহ মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

ঈদের তৃতীয় দিন গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) দেখা যায়, মেঘনার তীব্র স্রোত, নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ, হিমেল বাতাস এবং নদীকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিনোদন ব্যবস্থাকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহের শেষ নেই। নৌকা, স্পিডবোট ও ট্রলারে নদীতে ভ্রমণ, ঘোড়ার পিঠে চড়া এবং বিভিন্ন রাইড উপভোগে মেতে উঠেছেন দর্শনার্থীরা।

তুলাতুলি এলাকার ইলিশ বাড়ি পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা হাবিবুর রহমান ও সুমাইয়া দম্পতির সাথে কথা হয়। তারা জানান, ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে বসবাস তাদের।

ঈদের ছুটিতে ভোলার বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছেন। তুলাতুলির সব বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেই ঘুরেছেন তারা। প্রতিটি জায়গা সুন্দর এবং উপভোগের মতো। তারা সবাই খুব আনন্দ পেয়েছেন বলেও অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে আগত শিশু দর্শনার্থী, স্বজন, সিহাব, রাব্বী ও শিশিরের সাথে কথা হয়। তারা জানান, ঘোড়ার গাড়িতে ও পিঠে চড়া, নৌকা ভ্রমণ ও প্রকৃতির শীতল বাতাস উপভোগ আর নানা সাধের রুচিশীল খাবার খেয়ে দারুণ খুশি তারা।

অন্যদিকে ইলিশা এলাকার মেঘনা রিসোর্টে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী লামিয়া, খুশীমনি ও সুহাইমা বলেন, ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে তারা স্পিডবোটে নদী ভ্রমণ করেছেন। নদীর পাড়ের রেস্তোরাঁয় সুস্বাদু খাবার খেয়েছেন। সকাল থেকে ব্যাপক ঘোরাঘুরি করে দিনটি খুব আনন্দে কেটেছে তাদের।

এখানকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের ভাষ্য হচ্ছ- ‘অনেকে কুয়াকাটা বা কক্সবাজারে ঘুরতে যান। তবে ভোলার বহমান নদীর স্রোতোধারা আর প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যতে যে অনুভূতি পাওয়া যায়, তা সমুদ্রসৈকতের অনুভূতির চাইতে কোনো অংশে কম নয়।

চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লা থেকে ভোলায় ঘুরতে আসা পর্যটক তাহিয়া চৌধুরী ও রিমন সমাদ্দার বলেন, ইট-পাথরের ব্যস্ত শহুরে জীবনের ফাঁকে প্রকৃতির এমন নির্মল পরিবেশ খুব একটা পাওয়া যায় না। ভোলার পর্যটন স্পটগুলোতে এসে কোনোপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছি।

ভোলা সদরের তুলাতুলি ইলিশ বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক মো. হেলাল গোলদার বাসসকে জানান, বিগত বছরগুলোর চাইতে এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশ সন্তোষজনক। শহরতলির খেয়াঘাট সংলগ্ন বিনোদন পার্ক বেবীল্যান্ডের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রতিবারের চেয়ে এবার ঈদে দর্শনার্থীদের আগমনে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখতি পারছি।

এদিকে, এবারের ঈদে ভোলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। 

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার বাসসকে বলেন, ভোলার সব পর্যটন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারে, সে জন্য আমাদের সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন