ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

ক্যাথলিক পোপ লিও মুসলিম দেশ আলজেরিয়া সফর করবেন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০:০৯, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:১০, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ক্যাথলিক পোপ লিও মুসলিম দেশ আলজেরিয়া সফর করবেন

পোপ লিও (চতুর্দশ)। ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে সারাবিশ্ব যখন উদ্বেগের সাথে তাকিয়ে আছে, তখন পোপের এই সফরের মূল সুর হতে যাচ্ছে 'শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান'। ৪ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের দেশ আলজেরিয়ার ৯৯ শতাংশই মুসলিম। আগামী সোমবার পোপ লিও (চতুর্দশ) প্রথম পোপ হিসেবে আলজেরিয়া সফরে যাচ্ছেন।

এই সফরের মাধ্যমে তিনি ইসলামের সাথে সংলাপের বার্তা দেবেন, যা এই আমেরিকান পোপের জন্য একটি ব্যক্তিগত তীর্থযাত্রাও বটে।

১৩ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত পোপের এই ১১ দিনের আফ্রিকা সফরে তিনি মোট ১৮,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবেন। আলজেরিয়া এই সফরের প্রথম গন্তব্য; এরপর তিনি ক্যামেরুন, অ্যাঙ্গোলা এবং ইকুয়েটোরিয়াল গিনি পরিদর্শন করবেন, খবর ডেকান ক্রনিকলের।

উত্তর আফ্রিকার আলজেরিয়ায় ইসলাম রাষ্ট্রীয় ধর্ম। এর আগে কোনো পোপ আলজেরিয়া সফর করেননি। তাই ৭০ বছর বয়সী পোপের আগমনের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন দেশটির সংখ্যালঘু ক্যাথলিকরা। পোপ লিওর কাছে এই সফরের একটি জোরালো ব্যক্তিগত দিক রয়েছে, কারণ আধুনিক আলজেরিয়া ছিল সেন্ট অগাস্টিনের (৩৫৪-৪৩০) জন্মভূমি। এই মহান খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার পোপ লিওর যাজকীয় জীবনে গভীরভাবে মিশে আছে।

ভ্যাটিকানের মুখপাত্র মাত্তেও ব্রুনি জানান, পোপের লক্ষ্য হলো "মুসলিম বিশ্বের সাথে কথা বলা এবং সহাবস্থানের সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা।" আলজেরিয়ার সংবিধানে উপাসনার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষকে উপাসনার স্থান এবং প্রচারক—উভয়ই অনুমোদন করতে হয়। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ তিনটি সংস্থা গত সপ্তাহে পোপকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে এই সফরে বিষয়টি উত্থাপন করার অনুরোধ জানিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই সফরকে "প্রতীকী এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ" বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা আলজেরিয়ার ৯,০০০ ক্যাথলিক নাগরিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় অর্থ বহন করে। সরকারি দৈনিক 'এল মুজাহেদ' একে আলজেরিয়ার "সফট পাওয়ার" বা কোমল শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখছে, যা দেশটির স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এর ভূমিকা প্রতিফলিত করে।

সোমবার সকালে আলজিয়ার্সে পোপ লিও দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবউনের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। রাজধানীতে কোনো গণ-উপস্থিতির পরিকল্পনা নেই এবং পোপের বিখ্যাত সাদা গাড়ি 'পোপমোবাইল' বিমান বন্দরেই রাখা হবে। বিকেলে পোপ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ 'গ্রেট মস্ক অফ আলজিয়ার্স' পরিদর্শন করবেন এবং ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হবেন।

পোপ লিও ১৯৯২-২০০২ সালের গৃহযুদ্ধের সময় নিহত ১৯ জন যাজক ও সন্ন্যাসীর স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত চ্যাপেলে প্রার্থনা করবেন। তবে তিনি টিভহিরিন মঠ পরিদর্শন করবেন না, যেখানে ১৯৯৬ সালে কয়েকজন সন্ন্যাসীকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পোপ পূর্বাঞ্চলীয় শহর আন্নাবা (সেন্ট অগাস্টিনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান) সফর করবেন এবং সেখানে একটি গণপ্রার্থনা (Mass) পরিচালনা করবেন। ২০২৫ সালের ৮ মে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পোপ লিও নিজেকে এই মহান ধর্মতত্ত্ববিদের "সন্তান" হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। আন্নাবার সেন্ট অগাস্টিন ব্যাসিলিকার রেক্টর ফাদার ফ্রেড ওয়েকেসা বলেন, "পোপের এই সফর আমাদের ছোট সম্প্রদায়ের কাছে একাত্মতা ও উৎসাহের বার্তা নিয়ে আসবে এবং বিশ্ব আলজেরিয়ার মানুষের আতিথেয়তা ও উদারতা দেখতে পাবে।"

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন