শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:৪৫, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
দেশের সর্ববৃহৎ মিয়াওয়াকি বন উত্তরায় গড়ে তুলছে ডিএনসিসি। বাসস।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে উত্তরা দিয়াবাড়ী ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্বপাশে গ্রীন বেল্ট চিহ্নিত এলাকায় দেশের সর্ববৃহৎ মিয়াওয়াকি বন গড়ে তুলছে ডিএনসিসি।
আজ বুধবার উত্তরায় ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ প্রায় ৫৪ দশমিক ৬৩ কাঠা আয়তনের এ বনায়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
এখানে প্রচলিত মিয়াওয়াকি পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পরিবেশ ভাবনা সংযুক্ত করা হয়েছে, খবর বাসসের।
এই নগর বনায়ন এলাকায় প্রায় ১৪ হাজার চারা রোপণ করা হচ্ছে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রায় ২২৫ প্রজাতির দেশীয় ফলদ, বেরিজাত, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালো প্রজাতির গাছ।
মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক সংযোগ জোরদারে ‘বায়োফিলিক’ ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে বায়োমিমিক্রি নীতিমালার আলোকে সংবেদনশীল স্থানিক নকশার আলোকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
জেমিনাই যোগ করেছে: মিয়াওয়াকি ফরেস্ট বা মিয়াওয়াকি পদ্ধতি হলো বনায়ন বা বৃক্ষরোপণের একটি বিশেষ কৌশল, যা জাপানি উদ্ভিদবিদ ড. আকিরা মিয়াওয়াকি (Dr. Akira Miyawaki) উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো খুব অল্প জায়গায়, খুব কম সময়ে, একটি ঘন এবং প্রাকৃতিক বনের আদল তৈরি করা। এটি বিশেষত শহুরে এবং অবক্ষয়িত (degraded) এলাকায় দ্রুত বনায়ন বা গ্রিন কভার বাড়ানোর জন্য জনপ্রিয়।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য
এই পদ্ধতিটি সাধারণ বৃক্ষরোপণ থেকে বেশ কয়েকটি কারণে ভিন্ন:
১. দেশীয় প্রজাতির ব্যবহার (Native Species): এই পদ্ধতিতে কেবল সেই অঞ্চলের স্থানীয় ও দেশীয় প্রজাতির গাছপালা ব্যবহার করা হয়, যা সেখানকার মাটি ও জলবায়ুর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
২. অত্যন্ত ঘন রোপণ (Ultra-dense Planting): প্রতি বর্গমিটারে ৩ থেকে ৫টি চারা গাছ খুব ঘন করে রোপণ করা হয়। এই ঘনত্ব চারা গাছগুলোর মধ্যে দ্রুত সূর্যালোক পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, যা তাদের খুব দ্রুত বেড়ে উঠতে উৎসাহিত করে।
(ভারতের মুম্বাই-এ একটি মিয়াওয়াকি বন। ছবি: সংগৃহীত।)
৩. স্তর বিন্যাস (Layering): বনটিকে প্রাকৃতিক বনের মতো করে চারটি স্তরে (যেমন— canopy, sub-canopy, shrub, এবং groundcover) বিভক্ত করে চারা লাগানো হয়। এটি একটি বহুমুখী (multi-layered) এবং ঘন বাস্তুতন্ত্র তৈরি করে।
৪. মাটির প্রস্তুতি (Soil Preparation): রোপণের আগে স্থানীয় জৈব পদার্থ (যেমন— ধানের তুষ, গোবর সার, নারকেলের ছোবড়া) ব্যবহার করে মাটির গুণমান ও জলধারণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।
৫. দ্রুত বৃদ্ধি: এই পদ্ধতিতে রোপণ করা গাছ সাধারণ বনের তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত গতিতে বাড়ে এবং ৩০ গুণ বেশি ঘন হয়। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই (সাধারণত ২-৩ বছর পর) বনটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। এধরণের বনাঞ্চলে দোঁ-আঁশ মাটির সাথে নির্ধারিত পরিমাণে ভার্মি কম্পোস্ট, অর্গানিক ফার্টিলাইজার, বোন মিল, কোকোডাস্ট, রাইস হাস্ক ও তরল সার মিশ্রণ করে বনোপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়।
এ ধরণের বনায়নে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সুপ্রশংসিত জাপানি ধারণা ‘শিনরিন ইয়োকু’ বা ‘ফরেস্ট বাথিং’ কার্যক্রম, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে।
ডিএনসিসি’র সৃষ্ট বনে ঢালু ও আঁকাবাঁকা পথ, ঘন বনের ভেতর এবং লেকের পাড় ঘেঁষে পদচারণার সুবিধা রাখা হয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী গ্রীন বেল্ট চিহ্নিত এলাকায় এ নগর বনায়নটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।