শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২০:৫৩, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আজ ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আসন্ন গণভোটে শিক্ষার্থীদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হবে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ শিরোনামের লিফলেট ও পুস্তিকা বিতরণ; গণভোটের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি, ভিডিও ক্লিপ ও গান মোবাইল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রিলিজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্টিকার সাঁটানো হবে।
আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির সঙ্গে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ড. আলী রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে এবারের গণভোট।
তিনি আরো বলেন, একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে রায়ের কোনো বিকল্প নেই।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ইউজিসি চেয়ারম্যান এস. এম. এ. ফায়েজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।
তিনি বলেন, কোনোভাবেই আর যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, এ জন্য সংস্কার জরুরি। অপশাসন থেকে মুক্তি চাইলে সংস্কারের পক্ষে মত দিতে হবে। গণভোটে 'হ্যাঁ' বলতে হবে।
উপদেষ্টা আজ নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য জনগণের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এছাড়াও ফ্যাসিবাদ কায়েম করে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, আর কোনো রাজনৈতিক দল যাতে স্বেচ্ছাচারী হতে না পারে, সেজন্য গণভোটে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার প্রবণতা প্রতিরোধে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের রায় হ্যাঁ এর পক্ষে আসলে আর কেউ ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। জনগণ ক্ষমতায়িত হবে এবং নাগরিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও তিনি বলেন, গুম ও খুনের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ চাইলে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে, রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে জনগণকে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে হবে।
সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচন বিষয়ে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামীতে সরকার গঠনে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে, নিজের স্বার্থে নয়।
গণভোটে কেউ কেউ ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা কী-- এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার।
গণভোটে সেকারণেই ‘না’ অপশনটি রাখা হয়েছে।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবু জাফর, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুবাশ্বিরা আয়াতুল্লাহ ও ছাত্র নেতা আলিফ সিদ্দিকী প্রান্ত প্রমুখ।
এ সময় নীলফামারী জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।