শিরোনাম
ডেস্ক ফিচার
প্রকাশ: ২০:৪৬, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৪, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকার আদিবাসীদের কাছে ছুটির মৌসুম কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি তাদের সাংস্কৃতিকভাবে টিকে থাকা (Cultural Survival) এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্যের একটি প্রকাশ।
মার্কিন আদিবাসীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক পুরনো। আদিবাসীদের বড়দিন উদযাপন ইউরোপীয়দের মতো নয়। অনেক গোত্র খ্রিস্টধর্মের সাথে তাদের নিজস্ব আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সমন্বয় ঘটিয়েছে।
অনেক এলাকায় গির্জার প্রার্থনা হয় আদিবাসী ভাষায়। যেমন— 'নাভাহো' বা 'চেরোকি' ভাষায় ক্যারল গান গাওয়া হয়, যা তাদের বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম।
নাচ ও গান: সেন্ট ফিলিপ পুয়েবলোর মতো কিছু জায়গায় বড়দিনের প্রাক্কালে গির্জার ভেতরেই ঐতিহ্যবাহী 'বাফেলো ডান্স' বা 'ডিয়ার ডান্স' পরিবেশন করা হয়, যা যিশুর জন্মের প্রতি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির শ্রদ্ধাঞ্জলি, লিখেছে স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন,‘হাউ নেটিভ আমেরিকানস আর সেলিব্রেটিং দ্য হলিডে সিজন উইথ ফেস্টিভ মিলস, পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড চেরিশড ট্র্যাডিশনস’ নামক একটি প্রবন্ধে। এটি সম্প্রতি (ডিসেম্বর ২৩) এ প্রকাশিত হয়েছে।
খাবারের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের সাথে সংযোগ
নিবন্ধে খাবারের আধ্যাত্মিক দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে। উৎসবের ভোজ কেবল পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আচার।
তারা প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া উপাদান যেমন—জুনিয়ার বেরি, সিডার এবং বুনো চাল (Wild rice) ব্যবহার করে বিশেষ খাবার তৈরি করে।
স্পিরিট ডিশ (Spirit Dish): উৎসবের মূল খাবার শুরুর আগে একটি ছোট পাত্রে সব পদের খাবার নিয়ে ঘরের বাইরে বা আগুনের পাশে রাখা হয়। আদিবাসীরা বিশ্বাস করেন, তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মা এই খাবারের ঘ্রাণ গ্রহণ করেন এবং পরিবারকে আশীর্বাদ করেন।

গিভ-অ্যাওয়ে' (Giveaway) ঐতিহ্য
আদিবাসী সংস্কৃতির একটি মূল স্তম্ভ হলো 'উদারতা'। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বড়দিন মানে নিজের পরিবারের জন্য উপহার কেনা হলেও, আদিবাসীদের কাছে এটি হলো 'বিলিয়ে দেওয়া'।
ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও তারা গুরুত্ব দেয় গোষ্ঠীগত কল্যানকে। কেউ কোনো সাফল্য অর্জন করলে তিনি পুরো গ্রামকে খাওয়ান বা উপহার দেন।
শীতের এই সময়ে উপজাতীয় কাউন্সিলগুলো প্রবীণদের (Elders) শীতবস্ত্র, কাঠ এবং খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়।
নেটিভ আর্ট মার্কেট ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব দ্য আমেরিকান ইন্ডিয়ান যে আর্ট মার্কেটের আয়োজন করে, তার গুরুত্ব অপরিসীম।
এই মেলাগুলো কেবল বাণিজ্যের জায়গা নয়, বরং এটি শিল্পীদের পুনর্মিলনী।
এখানে রূপার গয়না, হাতে বোনা কম্বল এবং মাটির পাত্রের মাধ্যমে তারা তাদের ইতিহাসের গল্প বলেন। একজন ক্রেতা যখন একটি জিনিস কেনেন, তিনি আসলে সেই গোত্রের হাজার বছরের একটি ইতিহাস সাথে নিয়ে যান।
অয়নকাল ও প্রকৃতির প্রতি সম্মান
যারা বড়দিন পালন করেন না, তাদের জন্য ২১শে ডিসেম্বরের 'শীতকালীন অয়নকাল' (Winter Solstice) প্রধান উৎসব।
এটি অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রার প্রতীক।
এই সময়ে অনেক গোত্র তাদের পবিত্র গল্পগুলো (Sacred Stories) বলা শুরু করে। তাদের নিয়ম অনুযায়ী, অনেক গল্প আছে যেগুলো মাটিতে তুষার না পড়া পর্যন্ত বলা নিষেধ। এটি প্রকৃতির সাথে তাদের গভীর সম্পর্কের প্রমাণ।