শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬:১১, ২৪ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি (LPG) আমদানিকারক দেশ, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, খবর সিংগাপুর স্ট্রেইটস টাইমসের।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কালোবাজারি রোধ করতে এবং আতঙ্কিত না হতে রাজ্যগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।
নিম্ন আয়ের এলাকা মদনপুর খাদারের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী গৃহকর্মী শীলা কুমারী জানান, রান্নার গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাওয়ায় তিনি সিলিন্ডার ব্যবহার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি এএফপি-কে বলেন, "আগে আমরা ১,৮০০ থেকে ২,০০০ রুপিতে সিলিন্ডার কিনতাম, কিন্তু এখন কালোবাজারে এর দাম ৫,০০০ রুপি পর্যন্ত উঠে গেছে।" অথচ তার মাসিক বেতন মাত্র ৬,০০০ রুপি।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের জন্য এটা ভাবাই অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কাঠ ও কয়লার ব্যবহারে ফিরে গেছি।" শীলা জানান, ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য ১৪ কেজির একটি সিলিন্ডার টেনেটুনে ১৫-২০ দিন যায়। অন্যদিকে, ৩০ রুপিতে পাওয়া ১০ কেজি জ্বালানি কাঠ দিয়ে কয়েক দিন চলে যায়।
স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমার সন্তানদের কাশি হয়। কিন্তু এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।"
তার প্রতিবেশী ৪৫ বছর বয়সী মুন্নি বাই হাঁপানি রোগী। শ্বাসকষ্টের কারণে তিনি ইলেকট্রিক কুকার এবং গোবর থেকে তৈরি বায়োগ্যাস ব্যবহার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনিও বিকল্প জ্বালানিতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, "গ্যাস অনেক ব্যয়বহুল। আমরা এর ওপর নির্ভর করতে পারছি না। অসুস্থতার কারণে কাঠ-কয়লা ছেড়েছিলাম, কিন্তু এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।"
তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, সমস্যাটি কেবল দামের নয় বরং সাধারণ মানুষের গ্যাসের নাগাল পাওয়ার ক্ষেত্রেও।
অনেক প্রবাসী শ্রমিকের কাছে ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই, যার ফলে তারা অনানুষ্ঠানিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে মজুতদারির কারণে রান্নার গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
সেন্টার ফর অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ (CFAR)-এর দীপক বলেন, "এখনও বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হয়নি, তবে মজুতদারি বেড়েছে। অনেক প্রবাসী শ্রমিক কালোবাজারের সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল এবং সেখানে দাম দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে গেছে।"
নয়াদিল্লি এবং এর আশপাশের প্রায় ৩ কোটি বাসিন্দার এই বিশাল মহানগরী নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীর তালিকায় স্থান পায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন, তীব্র যানজট এবং আবর্জনা ও ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গত কয়েক দশক ধরে ভারত সরকার তার 'উজ্জ্বলা' বা 'আলো' প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে ১০ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে।
ঘরের ভেতরে কাঠ, কয়লা এবং জৈব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে পরিবারগুলো উচ্চমাত্রার ধোঁয়া ও বিষাক্ত কণার সংস্পর্শে আসে, যা শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা, যারা রান্নার জায়গার আশেপাশে বেশি সময় কাটায়, তারা এই স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত।