বাসস
প্রকাশ: ১৮:৪৬, ২ এপ্রিল ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
দেশে বর্তমানে আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, ফলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।
সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি জানান, মজুত করা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল- ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত থাকায় কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এছাড়া, অকটেনের মজুত রয়েছে ৯ হাজার ২১ মেট্রিক টন, যা ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। পেট্রোলের মজুত ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন।
যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান মজুত দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত।
বিকল্প পথে সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে আরও ১ লাখ টন তেল
হরমুজ প্রণালীর জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করছে।
লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এই তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন তেল জাহাজে লোড করা হবে। আরও ১ লাখ টন তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়ে আছে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের জাহাজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হবে। এতে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করছে বিএসসি।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, পরিশোধনের পর এই ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম।
বিএসসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজি সহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে।