বাসস
প্রকাশ: ১৬:০১, ৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রতীকি ছবি: বাসস।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশে কোনো ধরনের তেলের সংকট নেই। তেলের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকার আগামী তিন মাসের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাজার বন্ধ রাখা এবং মন্ত্রী ও সচিবদের ব্যয় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা।
শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান চাঁদ বাজার পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ১৭ বছরে শুধু উন্নয়নের বুলি শোনা গেছে, তবে বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে এখন সেই বাস্তব চিত্র পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ছে।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারের রাস্তা ও বাজার উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে, বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। তেলের জন্য বাইকার, কার মালিক ও বাস মালিকদের মাথা ব্যথার শেষ নেই। দ্য বিজনের স্টান্ডার্ড এক রিপোর্টে শুক্রবার বলেছে গতকাল কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার রাস্তায় যান চলাচল ছিল অস্বাভাবিক কম। ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকটের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে, দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় ঢাকার বেশিরভাগ বেসরকারি পেট্রোল পাম্প কার্যত বন্ধ ছিল। তবে সরকারি স্টেশনগুলো খোলা ছিল; সেগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। চট্টগ্রামেও একই ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে এবং যান চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা নিয়মিত চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি এপ্রিলে কোনো সংকট হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে।
স্বাভাবিক সরবরাহ সত্ত্বেও কেন পাম্পগুলোতে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, 'গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তা-ই করছি। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে—এটাও আমরা দেখছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে।'