শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৪২, ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪৪, ২৫ মার্চ ২০২৬
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড-এর প্রধান কার্যালয়, ওয়াশিংটন ডিসি।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)-এর প্রধান সতর্ক করেছেন যে, বিমান দুর্ঘটনা সাধারণত কতগুলো ব্যর্থতার সমষ্টি হিসেবে ঘটে। এনটিএসবি প্রধান মঙ্গলবার জানিয়েছেন, লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণরত এয়ার কানাডার জেটের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত অগ্নিনির্বাপক ট্রাকটিতে সচল কোনো ট্রান্সপন্ডার ছিল না, যার ফলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের পক্ষে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, খবর এমএস নাউ (MS NOW)-এর।
এনটিএসবি-এর চেয়ারম্যান জেনিফার হোমেন্ডি বলেন, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কেন একটি বিশেষ সিস্টেম—যা রানওয়ের বিপজ্জনক স্থানে কোনো যানবাহন থাকলে কন্ট্রোলারদের সতর্ক করার কথা—তা রবিবার রাতের ওই ভয়াবহ সংঘর্ষের আগে সংকেত দিতে ব্যর্থ হলো। প্রাথমিক বিশ্লেষণে রানওয়ের কাছে একাধিক যানবাহনের একত্রিত হওয়াকেও একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোমেন্ডি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এয়ার কানাডার দুই পাইলটের মৃত্যু এবং কয়েক ডজন মানুষের আহতের এই ঘটনার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিমান দুর্ঘটনা খুব কমই একটি মাত্র ভুলের কারণে ঘটে।
হোমেন্ডি বলেন, "আমরা খুব কমই এমন কোনো বড় দুর্ঘটনা তদন্ত করি যা কেবল একটি ব্যর্থতার ফল। আমাদের এভিয়েশন সিস্টেম অত্যন্ত নিরাপদ কারণ এখানে দুর্ঘটনারোধে নিরাপত্তার অনেকগুলো স্তর বা ধাপ রয়েছে। তাই যদি কোনো কিছু ভুল হয়, তার মানে অনেকগুলো বিষয় একসাথে ভুল হয়েছে।"
এনটিএসবি তদন্তকারী ডগ ব্রাজি মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, বিমান এবং জরুরি যান (যা একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া টেকঅফের সহায়তায় যাচ্ছিল) উভয়কেই একই রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
কন্ট্রোল রুমের একটি ভয়েস রেকর্ডিংয়ে দেখা গেছে, টাওয়ারে থাকা দুই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের একজন সংঘর্ষের কয়েক মুহূর্ত আগে অগ্নিনির্বাপক ট্রাকটিকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন।
কন্ট্রোলার চিৎকার করে বলছিলেন, “থামুন! থামুন! থামুন! ট্রাক ১, থামুন!” এরপর তিনি অন্য একটি বিমানকে সংঘর্ষের জায়গা এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সংঘর্ষের পর তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি ভুল করে ফেলেছি।”
হোমেন্ডি জানান যে, লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে মধ্যরাতের শিফটে দুইজন কন্ট্রোলারের একাধিক ভূমিকা পালন করা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর একটি আদর্শ কার্যপদ্ধতি এবং এটি জাতীয় আকাশসীমায় একটি সাধারণ অনুশীলন। তবে তিনি যোগ করেন যে, এনটিএসবি বারবার এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
পরিবহন সচিব শন ডাফি সোমবার দেশজুড়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে ৩৭ জন কন্ট্রোলারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩৩ জন শংসাপত্রপ্রাপ্ত কন্ট্রোলার এবং ৭ জন প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন।
এনটিএসবি সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে দুর্ঘটনার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে পরিবহন সচিব ডাফি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের সেই রিজিওনাল জেটের (জ্যাজ এভিয়েশন দ্বারা পরিচালিত একটি CRJ-900 মডেল) পাইলটদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন ক্যাপ্টেন অ্যান্টোইন ফরেস্ট এবং ফার্স্ট অফিসার ম্যাকেঞ্জি গানথার। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, "ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা দুই তরুণ।"
ফরেস্টের ভাই সেড্রিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ফরাসি ভাষায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, "শুভ উড্ডয়ন, আমার ভাই! এই কথাটি আমরা প্রায়ই শুনেছি, কিন্তু এবারই শেষ। বিদায় বলার আগেই বাতাসের টানে অকালে চলে গেলে। আমি তোমাকে ভালোবাসি ভাই।" ফরেস্টের পরিবার 'টরন্টো স্টার'-কে জানিয়েছে যে তার বয়স ছিল ৩০-এর কোঠায়। কুইবেকে বুশ প্লেন চালানো শেখার পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি এয়ার কানাডায় যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ওন্টারিওর সেনেকা কলেজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে যে, গানথার ২০২৩ সালে সেই কলেজের এভিয়েশন টেকনোলজি প্রোগ্রাম থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
এফএএ (FAA) প্রশাসক ব্রায়ান বেডফোর্ড এই প্রাণহানিকে একটি "চরম ট্র্যাজেডি" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওই ফ্লাইটের যাত্রী রেবেকা লিকোরি মঙ্গলবার একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি বলেন, "বিমানের ব্রেকের বিকট ঘর্ষণের শব্দের পর একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ শোনা গিয়েছিল।" লিকোরি নিজেই জরুরি বহির্গমন পথ খুলে অন্য যাত্রীদের সাহায্য করেছিলেন।
পাইলটদের পেছনের আসনে থাকা ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সোলাঞ্জ ট্রেম্বলে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ছিটকে বাইরে পড়ে যান বলে তার মেয়ে সারাহ লেপাইন জানিয়েছেন। লেপাইন কুইবেকের 'টিভিএ নিউজ'-কে বলেন যে তার মায়ের হাড় এবং পা ভেঙে গেছে, তবে তার বেঁচে থাকাটা "একটি অলৌকিক ঘটনা"।
লেপাইন আরও বলেন, "সংঘর্ষের মুহূর্তে তার আসনটি বিমান থেকে ১০০ মিটারেরও বেশি দূরে ছিটকে যায়। উদ্ধারকারীরা যখন তাকে খুঁজে পায়, তখনও তিনি আসনের বেল্টের সাথে বাঁধা ছিলেন। তার ওপর কোনো অলৌকিক ছায়া ছিল, নাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।"