শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:২৪, ২৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৩:২৭, ২৬ মার্চ ২০২৬
আটলান্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স-এর লম্বা লাইন। ছবি: সংগৃহীত।
ম্যাকনিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির সদস্যদের বলেন, কিছু প্রধান বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় চার ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে এবং সেসব বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মীদের কাজে অনুপস্থিত থাকার হার ৪০% থেকে ৫০% এ পৌঁছেছে। তিনি জানান, এই আংশিক সরকারি অচলাবস্থা শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে, শুরু থেকে এ পর্যন্ত টিএসএ কর্মীদের বকেয়া বেতনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে, খবর ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও’র।
তিনি বলেন, এই পর্যায়ের বিঘ্ন নজিরবিহীন এবং অগ্রহণযোগ্য, যা মার্কিন পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করছে। ম্যাকনিল আরও জানান যে, কর্মীরা তাদের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারছেন না এবং এর ফলে তাদের পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। অনেকে উচ্ছেদের নোটিশ পাচ্ছেন, গাড়িতে ঘুমাচ্ছেন এবং জীবনধারণের জন্য রক্ত ও প্লাজমা বিক্রি করছেন। অচলাবস্থা শুরুর পর থেকে ৪৮০ জনেরও বেশি কর্মী পদত্যাগ করেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের তাদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকা উচিত নয়। এর পাশাপাশি, অচলাবস্থা শুরুর পর থেকে টিএসএ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ৫০০% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ম্যাকনিল প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে আইসিই (ICE) এজেন্ট পাঠানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এর ফলে টিএসএ কর্মকর্তারা এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্ক্রিনিং দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারছেন। তবে কর্মী স্বল্পতার কারণে ছোট বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দিতে হতে পারে এবং তিনি আশঙ্কা করছেন যে, সংস্থাটি দক্ষ কর্মকর্তাদের হারানো অব্যাহত রাখবে এবং নতুন প্রতিভা আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হবে।
ম্যাকনিল উল্লেখ করেন যে, চেকপয়েন্টে কাজ করার জন্য একজন ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিতে চার থেকে ছয় মাস সময় লাগে। এর অর্থ হলো, আগামী জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচের সময় নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা কাজের জন্য প্রস্তুত থাকবেন না। টিএসএ অনুমান করছে যে, এই টুর্নামেন্টের জন্য অতিরিক্ত ৬০ লক্ষ থেকে ১ কোটি যাত্রী যাতায়াত করবেন। তিনি ভ্রমণকারী জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা বেতন না পেয়েও আপনাদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, তাই দয়া করে ধৈর্য ধরুন এবং সহানুভূতি দেখান।
বুধবারের শুনানিতে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান হাউজ সদস্যরা এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করার জন্য একে অপরকে দায়ী করেন। উভয় পক্ষই ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অর্থায়নের বিষয়ে একমত হতে পারছেন না। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, আইসিই-কে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মকর্তারা অপ্রয়োজনীয় শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী হুমকির সম্মুখীন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শিথিল অভিবাসন নীতিগুলো আইসিই সংশোধন করছে।
টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি অগাস্ট ফ্লুগার বলেন, আমরা এখানে একটি অকল্পনীয় বিশৃঙ্খলা পরিষ্কার করতে এসেছি, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সময়কার। বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য সাবেক ডিএইচএস (DHS) সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের ২০২৫ সালের মার্চ মাসে টিএসএ-র যৌথ দরকষাকষি চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ (AFGE) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জয়লাভ করে।
এ প্রসঙ্গে রিপাবলিকানদের সম্বোধন করে ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ তাদের ভণ্ডামি বন্ধ করতে বলেন। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি শ্রী থানেদার বলেন, আইসিই এজেন্টদের তেমন কোনো ভূমিকা নেই, কারণ তিনি ডেট্রয়েট মেট্রো বিমানবন্দরে তাদের ফোনে ব্যস্ত থাকতে এবং আড্ডা দিতে দেখেছেন। তবে ম্যাকনিল পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, আইসিই এই অচলাবস্থার সময়ে টিএসএ-কে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে।