শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:৩৬, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা এবং "অপারেশনাল প্রয়োজনের" অজুহাতে ধারাবাহিক উচ্ছেদ ও ধ্বংসযজ্ঞের আদেশ দেওয়ায় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা "জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির" বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন।
তুলকারেমের কাছে নূর শামস শরণার্থী ক্যাম্পের ২৫টি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক বিভাগ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা একে "আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছে, খবর সউদি গ্যাজেটের।
উচ্ছেদের সময়সীমা: পশ্চিম তীরে ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) এর পরিচালক রোল্যান্ড ফ্রেডরিখ জানিয়েছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ ১৮ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হতে পারে। এর ফলে কয়েকশ ফিলিস্তিনি স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ: ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এটি মূলত শরণার্থী ক্যাম্পগুলো জনশূন্য করা এবং পশ্চিম তীরসহ পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের সাথে সংযুক্ত (annexation) করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, "অপরিহার্য অপারেশনাল প্রয়োজনের" কারণেই তারা এই উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
এই উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণাটি এমন সময়ে আসলো, যখন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে এমন দুটি এলাকাও রয়েছে যা ২০০৫ সালের পরিকল্পনায় খালি করা হয়েছিল।
ইসরায়েলি সেটেলমেন্ট ওয়াচডগ 'পিস নাও' (Peace Now) এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, "সরকার এই অঞ্চলে ইসরায়েলের উপস্থিতি পাকাপোক্ত করতে এবং ভবিষ্যতে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে সম্ভাব্য সব কিছুই করছে।"
বসতি স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশও একে অবৈধ বলে গণ্য করে। ইসরায়েলি পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'পিস নাও'-এর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বর্তমান ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৮টি নতুন বসতি স্থাপন করা হয়েছে, যা বসতি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি নজিরবিহীন গতি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুক্তি
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, উত্তর পশ্চিম তীরের এই এলাকাগুলো "সন্ত্রাসী কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকার ভেতর থেকে পরিচালিত হচ্ছে।"
সেনাবাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও যোগ করেছে:
"চলতি সপ্তাহের শুরুতে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নূর শামস এলাকার বাসিন্দাদের জানিয়েছে যে, আইডিএফ (IDF) বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। বাসিন্দাদের তাদের ব্যক্তিগত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।"
মানবিক সংকট ও স্থায়ী বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা
ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) কর্মকর্তা রোল্যান্ড ফ্রেডরিখ সতর্ক করে বলেছেন, "উত্তর পশ্চিম তীরের ৩২,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীর এই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি যেন স্থায়ী না হয়। বাসিন্দারা দীর্ঘ ১১ মাস ধরে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। কিন্তু বুলডোজারের প্রতিটি আঘাতের সাথে সাথে তাদের সেই আশা আরও দূরে সরে যাচ্ছে।"
অভিযান ও পাল্টা অভিযোগ
বর্তমানে নূর শামস, তুলকারেম এবং জেনিনসহ উত্তর পশ্চিম তীরের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এবং হামলা রোধ করতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই পদক্ষেপগুলো মূলত "জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি" এবং "সম্মিলিত শাস্তি" দেওয়ার নামান্তর।