শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:৩৬, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৯:৪১, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
তাইওয়ানের কাছে বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির প্রতিক্রিয়ায় ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং ১০ জন নির্বাহীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি বিশাল অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করার পর বেইজিং এই পদক্ষেপ নিল। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং এই বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর চীনে থাকা সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং কোনো চীনা ব্যক্তি বা সংস্থা তাদের সাথে ব্যবসা করতে পারবে না, খবর এনবিসি’র।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রামান সিস্টেমস কর্পোরেশন (Northrop Grumman Systems Corporation), এল-থ্রি হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস (L3Harris Maritime Services) এবং সেন্ট লুইস ভিত্তিক বোয়িং (Boeing)। এছাড়া প্রতিরক্ষা সংস্থা অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের (Anduril Industries) প্রতিষ্ঠাতা পামার লাকি সহ ১০ জন নির্বাহীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা চীনে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং দেশটিতে থাকা তাদের সকল সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে।
যদি মার্কিন কংগ্রেস এই ১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করে, তবে এটি হবে স্বশাসিত তাইওয়ানের জন্য আমেরিকার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্যাকেজ।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, "আমরা আবারও জোর দিচ্ছি যে তাইওয়ান ইস্যুটি চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রে এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি প্রথম 'রেড লাইন' যা অতিক্রম করা উচিত নয়। যে কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে জড়িত থাকলে তাদের ভুলের মাশুল দিতে হবে।" মন্ত্রণালয় আমেরিকাকে তাইওয়ানকে সশস্ত্র করার এই "বিপজ্জনক পদক্ষেপ" বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যুটি মার্কিন-চীন সম্পর্কের একটি প্রধান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু যা ভবিষ্যতে সামরিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। চীন মনে করে, আমেরিকার এই অস্ত্র বিক্রি দুই দেশের মধ্যে থাকা কূটনৈতিক চুক্তির লঙ্ঘন।
গত কয়েক বছর ধরে চীন তাইওয়ানের আকাশসীমা এবং সমুদ্র সীমায় তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিনই দ্বীপটির কাছে যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান দিয়ে মহড়া চালাচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন আইন অনুযায়ী আমেরিকা তাইওয়ানকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে বাধ্য, যা বর্তমানে বেইজিংয়ের সাথে ওয়াশিংটনের উত্তেজনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং মানবাধিকার ইস্যুতে আগে থেকেই দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।