শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০:৩০, ১ জানুয়ারি ২০২৬
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন যে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তি দশ শতাংশ দূরে রয়েছে।
তার নববর্ষের ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়, তবে যেকোনো মূল্যে নয়। তিনি আরও বলেন যে রাশিয়া যাতে ভবিষ্যতে আবারও আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তবে জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে এও বলেছেন যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও সমাধান করা হয়নি, খবর সুইডেন হেরাল্ডের।
ডিসেম্বরে দুই দেশ জার্মানিতে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হলো পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল।
গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি কাছে। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও বলেছেন যে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হতে পারে।
জেমিনাই যোগ করেছে:
শান্তি চুক্তির মূল শর্তাবলি (২০-দফা পরিকল্পনা)
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বর্তমানে একটি ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যার ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। চুক্তির প্রধান শর্তগুলো হলো:
নিরাপত্তা গ্যারান্টি: ইউক্রেন ১৫ থেকে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টি চাইছে। ইউরোপীয় দেশগুলো (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি) একটি "মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স" গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে যা ইউক্রেনের আকাশ ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কাজ করবে।
ডনবাস ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব: রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ১৯ শতাংশ এলাকা দখল করে আছে। মার্কিন প্রস্তাবে ডনবাসের বিতর্কিত অংশকে একটি "মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল" হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যেখান থেকে উভয় পক্ষই সেনা সরিয়ে নেবে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি অঞ্চলটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে নন।
সেনা সংখ্যা: রাশিয়া দাবি করেছে ইউক্রেনকে তার সেনাবাহিনী বড় আকারে ছোট করতে হবে। বিপরীতে ইউরোপীয় মিত্ররা ইউক্রেনের শান্তিকালীন সেনাবাহিনী ৮ লাখ রাখার পক্ষে মত দিয়েছে।
গণভোট: জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যেকোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে তিনি ইউক্রেনের জনগণের মতামত নিতে একটি জাতীয় গণভোট আয়োজন করতে চান।
ইইউ সদস্যপদ: চুক্তির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে সমর্থন জানাবে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আপডেট (১ জানুয়ারি ২০২৬)
নতুন বছরের আক্রমণ: নববর্ষের প্রথম প্রহরেই রাশিয়া ওডেসা এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী তারা ইউক্রেনের দিক থেকে আসা ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
জেলেনস্কির অবস্থান: তার ভাষণে তিনি সতর্ক করেছেন যে বাকি থাকা ১০ শতাংশ অত্যন্ত জটিল, যা পুরো ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি কোনো "দুর্বল চুক্তি" (Weak Agreement) স্বাক্ষর করবেন না যা রাশিয়াকে ভবিষ্যতে আবারও আক্রমণের সুযোগ দেয়।
ট্রাম্প ও তুষকের আশাবাদ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তারা চুক্তির "সবচেয়ে কাছে" আছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুষকও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ২০২৬ সালেই যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে।
রাশিয়ার মনোভাব: পুতিন তার ভাষণে জানিয়েছেন তিনি এখনও বিজয় নিয়ে আশাবাদী এবং রুশ নাগরিকদের বড় অংশই (জরিপ অনুযায়ী ৫৫%) মনে করছে ২০২৬ সালে যুদ্ধ শেষ হবে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক তৎপরতা চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টির আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে এখনও বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। (জেমিনাই প্রদত্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভন হয়নি বিজবাংলা কর্তৃক।)