শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০:৪০, ৫ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি। সংগৃহীত।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক সভায় ঘোষিত এই লক্ষ্যমাত্রা (৫% প্রবৃদ্ধি) বিশ্ববাজারে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।১৯৯১ সালের পর এই প্রথম চীন তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশের নিচে (৪.৫% থেকে ৫%) নির্ধারণ করেছে। এটি গত তিন দশক ধরে চলা উচ্চ প্রবৃদ্ধির যুগের মন্থরগতির একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
চলমান অভ্যন্তরীণ সংকট: চীনের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের।
দীর্ঘস্থায়ী মূল্য সংকোচন (Deflation), উচ্চ পর্যায়ের তরুণ বেকারত্ব ও ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাপ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ চীনের রপ্তানি নীতিকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করেছে। যদিও ২০২৫ সালে চীন রেকর্ড ১.১৯ ট্রিলিয়ন ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (Trade Surplus) অর্জন করেছে, তবুও নতুন বাজারের সন্ধানে কারখানাগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বনাম বাস্তবতা: যদিও চীন দাবি করেছে গত বছর তাদের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছিল, অনেক বিশেষজ্ঞ তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'রোডিয়াম গ্রুপ'-এর মতে, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কম হতে পারে।
কেন এই ৫ শতাংশের নিচের লক্ষ্যমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ?
চীনের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সংকেত। শি জিনপিংয়ের সরকার যখন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনে, তখন বোঝা যায় যে রাষ্ট্র এখন আগ্রাসী প্রবৃদ্ধির চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দিকে বেশি মনোযোগী হতে চাইছে।
বিশেষজ্ঞদের মত: ম্যাককুয়ারি গ্রুপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের বড় শহর এবং প্রদেশগুলো আগেই তাদের ব্যক্তিগত লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দিয়েছিল, যা থেকে এই জাতীয় সিদ্ধান্তের আভাস পাওয়া গিয়েছিল।
প্রবৃদ্ধির গতিপথ পরিবর্তন: সহজ থেকে কঠিনের পথে
চীন যখন প্রথম বিশ্ববাজারের জন্য উন্মুক্ত হয়, তখন উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সহজ ছিল। কিন্তু এখন তারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ লুই কুইজ যেমনটি বলেছেন, আপনি যখন উন্নতির শিখরের কাছাকাছি পৌঁছে যান, তখন আরও সামনে এগিয়ে যাওয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।
ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের সংকট: "ইনভল্যুশন" (Involution)
চীনের অর্থনীতির মূল শক্তি হলো তাদের বিশাল শিল্প পার্ক এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) বা সোলার প্যানেল তৈরির কারখানা। কিন্তু এই অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা: কারখানাগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য তৈরি করছে।
তীব্র প্রতিযোগিতা: বাজারে টিকে থাকতে কোম্পানিগুলো দাম কমিয়ে দিচ্ছে, যাকে বলা হচ্ছে 'ইনভল্যুশন'। এর ফলে কোম্পানিগুলো পণ্য বেশি বিক্রি করলেও মুনাফা করতে পারছে না।
সাধারণ মানুষের পকেটে টান: কেন খরচ বাড়ছে না?
অর্থনীতিবিদরা এবং আইএমএফ (IMF) দীর্ঘদিন ধরে চীনকে পরামর্শ দিচ্ছে যেন তারা সাধারণ মানুষের খরচ করার ক্ষমতা (Consumer Spending) বাড়ায়। কিন্তু এখানে কিছু মৌলিক বাধা রয়েছে:
১. আবাসন খাতের ধস: সাধারণ মানুষের সম্পদের বড় অংশই ছিল ঘরবাড়িতে, যার দাম কমে যাওয়ায় তাদের সঞ্চয় কমে গেছে।
২. সামাজিক নিরাপত্তার অভাব: অবসর জীবন বা চিকিৎসার খরচের চিন্তায় মানুষ টাকা খরচ না করে জমিয়ে রাখছে।
৩. স্থবির মজুরি: অর্থনীতিবিদ আলিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরোর মতে, মানুষের আয় না বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে খরচ বাড়বে না।
সমাধানের পথে চীন কী করছে?
সরকার বর্তমানে 'উচ্চ-মানের প্রবৃদ্ধি' (High-quality growth) অর্জনের চেষ্টা করছে, যার মূল ফোকাস হলো:
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) তথা উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ।
ভর্তুকি ও পেনশন: ইলেকট্রিক গাড়ি বা ঘরের সরঞ্জামে রিবেট দেওয়া এবং পেনশন বৃদ্ধি করা।
কাঠামোগত পরিবর্তন: বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।